আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!

পর্তুগিজ ফুটবলের অবিসংবাদিত নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো: কিছু অবিস্মরণীয় মাইলফলক
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ার পর্তুগিজ ফুটবলের স্বর্ণযুগের প্রতীক। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মাঠের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের গুণাবলীতে নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পর্তুগালের হয়ে তাঁর কেরিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য অধ্যায় নিচে তুলে ধরা হলো:
ইউরো ২০১৬ জয়: ফ্রান্সের মাটিতে আয়োজিত ইউরো ২০১৬-এর ফাইনালে আয়োজক দেশ ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে পর্তুগাল তাদের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেও, সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের ক্রমাগত উৎসাহ জুগিয়ে দলকে শিরোপা জয়ের পথে চালিত করেন রোনাল্ডো।
২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক: ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ বি-র ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ৩-৩ ড্র ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে তিনটি গোলই করেন রোনাল্ডো। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে দুরন্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং দলকে নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা করেন।
২০১৪ বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা: ২০১৩ সালে সুইডেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্লে-অফ ম্যাচটি রোনাল্ডোর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত। প্রথম লেগের পর দ্বিতীয় লেগে তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সুবাদে পর্তুগাল দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের মূলপর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।
উয়েফা নেশনস লিগ জয়: ২০১৯ সালে প্রথম উয়েফা নেশনস লিগ জয়ে রোনাল্ডো মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সেমিফাইনালে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও পরবর্তীতে নেশনস লিগ জয়ের স্বাদ পান এই মহাতারকা।
অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ড ও অর্জন: দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে (২০০৩-২০২৬) রোনাল্ডো অগণিত রেকর্ডের মালিক হয়েছেন। তিনি পর্তুগালের সিনিয়র দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন, যা পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বরেকর্ড। এছাড়া প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি এবং পরবর্তীতে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কৃতিত্বও তাঁর দখলে।
২০০৩ সালে এক কিশোর প্রতিভা হিসেবে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ২৩ বছরের পথচলায় রোনাল্ডো পর্তুগিজ ফুটবলের সর্বকালের সেরা ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য ও রেকর্ডসমূহ বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল অক্ষত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।