ট্রাম্পের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড়, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে

দীর্ঘ উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার এক দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন শেষে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাক মধ্যস্থতায় পিছু হটলেন ট্রাম্প
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দলের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। ওদিকে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের দীর্ঘ বৈঠকের পর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যুদ্ধবিরতির খবরটি আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই ইরানকে একটি যৌথ প্রস্তাব নিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পেছনে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপ কাজ করছে। একদিকে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের নিজের সমর্থকরাও বাইরের দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। তবে এবার যুদ্ধবিরতির কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করায় এক ধরনের অনিশ্চয়তাও সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্যাটুলিসের মতে, এটি একটি ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য হোর্মুজ প্রণালীর অবরোধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
এক ঝলকে
- পাকিস্তানি নেতৃত্বের অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- ইসলামাবাদে নির্ধারিত কূটনৈতিক বৈঠক স্থগিত হলেও নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান।
- বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- হোর্মুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার এবং শান্তি চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য বিদ্যমান।