“বাবু, একে মেরে ফেলবে?” স্বামীকে সরাতে দেওরকে ৫০ হাজারের সুপারি! দিল্লির রোমহর্ষক খুনের নেপথ্যে কে?

দিল্লির আলিপুর এলাকায় দীর্ঘ ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের এক নৃশংস পরিণতি দেখল প্রতিবেশীরা। প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধার নেশায় নিজের স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সোনিয়া নামের এক নারী। অভিযোগ উঠেছে, নিজের দেবর বিজয়কে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সুপারি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করান তিনি। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য স্বামীর মরদেহ নালায় ফেলে দেওয়া হয়।
প্রেমিকের হাত ধরে হত্যার ছক
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের পর প্রিতম ও সোনিয়া বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং তাদের তিনটি সন্তানও রয়েছে। তবে সম্প্রতি ২৮ বছর বয়সী রোহিত নামের এক ট্যাক্সি চালকের প্রেমে পড়েন সোনিয়া। রোহিতের অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গেই নতুন জীবন গড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো স্বামী প্রিতমকে সরিয়ে দিতেই খুনের নীল নকশা তৈরি করা হয়। নিজের দেবরকে খুনের দায়িত্ব দিয়ে অগ্রিম টাকাও প্রদান করেন সোনিয়া।
ফোনের লোভেই ফাঁস রহস্য
স্বামী নিখোঁজ হওয়ার একটি সাজানো অভিযোগ থানায় দায়ের করেছিলেন সোনিয়া। তবে খুনের রহস্য উন্মোচিত হয় ঘাতকদের একটি ছোট ভুলে। হত্যার পর প্রিতমের দামী মোবাইল ফোনটি নষ্ট করার কথা থাকলেও, লোভের বশবর্তী হয়ে সেটি নিজেদের কাছে রেখে দেয় খুনিরা। পুলিশ মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে প্রথমে রোহিতকে আটক করে এবং দীর্ঘ জেরার পর সে সত্য স্বীকার করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দেবর বিজয় পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এক ঝলকে
- দিল্লির আলিপুরে প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধতে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা স্ত্রীর।
- ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে দেবরকে দিয়ে নিজের স্বামীকে হত্যা করান সোনিয়া।
- খুনের পর স্বামীর অটো বিক্রি করে দেবরের পাওনা টাকা পরিশোধ করেন তিনি।
- নিহতের দামী মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে গিয়েই পুলিশের জালে ধরা পড়ে ঘাতকরা।