বাসররাত সেরে বরকে ঘরে বন্দি, শাড়ির দড়ি বানিয়ে পালাতে গিয়েই রক্তারক্তি কাণ্ড নববধূর!

রাজস্থানের যোধপুরে বিয়ের নামে বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস হয়েছে। বিয়ের মাত্র দু’দিন পরেই স্বামীকে ঘরে বন্দি করে পালানোর চেষ্টা করেন বিহারের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণী সুমন পাণ্ডে। পালানোর জন্য শাড়ি দিয়ে দড়ি বানিয়ে বারান্দা থেকে নামতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান তিনি। এতে ওই তরুণীর দুই পা-ই ভেঙে যায়। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বেরিয়ে এসেছে তার আসল পরিচয় ও একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
বিয়ের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কারবার
ভুক্তভোগী ভরত জানান, বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে না পেয়ে তিনি পরিচিত এক ঘটকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। সেই ঘটকই বিহারের সুমনের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দেন এবং বিয়ের খরচ বাবদ মোট ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেন। ভরত নগদ ১ লক্ষ ৭০ হাজার এবং অনলাইনে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে আর্য সমাজ মন্দিরে সুমনকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের দু’দিন যেতে না যেতেই সুমনের আচরণে সন্দেহ দেখা দেয় এবং তাকে নিয়ে পারিবারিক বিবাদ শুরু হয়।
ভুয়া পরিচয় ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের হদিস
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি কেবল রাজস্থানেই নয়, বরং উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার জুড়ে সক্রিয়। বিয়ের সময় সুমন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করলেও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তিনি আগে থেকেই বিবাহিত। এমনকি আদালতে দাখিল করা তার সমস্ত নথিপত্রই ভুয়া ছিল। সুমনের পালানোর সময় বাইরে তার দুই সহযোগী রবি ও সন্দীপ অপেক্ষমান ছিল, যারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ বর্তমানে এই চক্রের সাথে জড়িত ছয়জন অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই ঘটনার প্রভাব স্থানীয় সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিয়ের জন্য দালাল বা অপরিচিত ঘটকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা যে চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। বিশেষ করে ভিনরাজ্যের পাত্রীর ক্ষেত্রে যথাযথ পরিচয় যাচাই না করায় প্রতারক চক্রগুলো সাধারণ মানুষকে সহজেই ফাঁদে ফেলছে।
এক ঝলকে
- বিয়ের দু’দিন পর স্বামীকে ঘরে বন্দি করে শাড়ির সাহায্যে পালানোর সময় গ্রেফতার প্রতারক তরুণী।
- ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিহারের ওই তরুণীর সাথে রাজস্থানের যুবকের ভুয়া বিয়ে ঠিক হয়েছিল।
- বারান্দা থেকে লাফ দেওয়ায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ওই লুতেরি দুলহান।
- বিহার ও উত্তরপ্রদেশ ভিত্তিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যারা বিয়ের নামে মানুষের থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।