‘তোলাবাজি ও কাটমানি রুখতে কড়া ব্যবস্থা’, ডায়মন্ড হারবারের বৈঠক থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

রাজ্যজুড়ে চলা সব ধরণের তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং সরকারি প্রকল্পের ‘কাটমানি’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কড়া বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন সরকারের জমানায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ কিংবা হকারদের ওপর কোনো রকম জুলুম বা বেআইনি অর্থ আদায় বরদাস্ত করা হবে না।
টোটো-অটো ও হকারদের থেকে তোলাবাজি নিষিদ্ধ
ডায়মন্ড হারবারসহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় টোটো, অটো এবং ফুটপাথের হকারদের কাছ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে টাকা তোলার যে অভিযোগ আসত, তা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি জানান:
- টোটো ও অটো চালকদের কাছ থেকে কোনো ধরণের বেআইনি চাঁদা বা দৈনিক ‘তোলা’ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ।
- ফুটপাথের হকারদের উচ্ছেদ বা ব্যবসার ভয় দেখিয়ে যাঁরা টাকা তোলে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
- রাস্তায় বা ঘাটে ‘অবৈধ টোল’ ট্যাক্স বসিয়ে লরি ও মালবাহী গাড়ি থেকে টাকা তোলার যে রেওয়াজ রয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ জানানোর আহ্বান ও কাটমানি নিয়ে জিরো টলারেন্স
শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি কোথাও এই ধরণের তোলাবাজি চলে এবং তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তবে ভয় না পেয়ে সরাসরি স্থানীয় থানায় বা জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করুন। প্রশাসন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দলমত নির্বিশেষে অপরাধীদের গ্রেফতার করবে।
একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প, যেমন আবাস যোজনা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে গরিব মানুষের থেকে ‘কাটমানি’ নেওয়ার বিষয়ের ওপরেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পে কোনো স্তরে দুর্নীতি বা টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের প্রাক্তন গড় ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই দুর্নীতিবিরোধী কড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি রাজ্যের সাধারণ মানুষকে এক বড়সড় প্রশাসনিক স্বস্তি দেবে।