‘প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভোট চাইতে এসেছি, ফলতায় ১ লক্ষ ভোটে জেতান’, পুনর্নির্বাচনের প্রচারে শুভেন্দুর মেগা হুঙ্কার

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চড়ল রাজনৈতিক পারদ। শনিবার ফলতায় এক হাইপ্রোফাইল নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে জোরালো প্রচার চালালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে ফলতার মানুষের কাছে ভোট চেয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এই লড়াই শুধু জেতার নয়, বরং এক ঐতিহাসিক ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়ার।
ফলতার ভোটারদের বিশেষ শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর
ফলতার মাটিতে সভা শুরু করেই সেখানকার সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ফলতার মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করেছেন এবং এই পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তার জন্য সমস্ত ভোটাররা শ্রদ্ধার পাত্র। আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
২ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের কেন্দ্রে ১ লক্ষের ব্যবধানের টার্গেট
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ের মার্জিন বা ব্যবধান ঠিক কত হওয়া উচিত, তা জনসভা থেকেই বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“আমি ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। ফলতায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ২৫ হাজার। আমি আপনাদের কাছে আবেদন করছি, এখানে শুধু দেবাংশুকে কোনোমতে জেতানো নয়, আপনারা দেবাংশু পণ্ডাকে কমপক্ষে ১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠান।”
ক্ষমতা বদলের পর ফলতায় প্রথম বড় পরীক্ষা
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফলতার এই পুনর্নির্বাচন নতুন বিজেপি সরকারের কাছে অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জায়গায়, যা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়’ পাওয়ার টার্গেট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী এই সভার মাধ্যমে বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি বার্তা দিয়েছেন যে, নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ গতি বাড়াতে ফলতাতেও পদ্ম ফোটানো অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার, ২১ মে ফলতার ভোটাররা মুখ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানে কতটা সাড়া দেন।