তামিল আবেগে শান দিতেই কি ফের প্রভাকরণ বন্দনা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

তামিল আবেগে শান দিতেই কি ফের প্রভাকরণ বন্দনা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

শ্রীলঙ্কার তামিলদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে বিতর্কিত এলটিটিই (এলটিটিই) নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের প্রসঙ্গ আরও একবার সামনে নিয়ে এলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। ১৮ মে শ্রীলঙ্কার তামিলদের ‘মুল্লিভাইক্কল দিবস’ স্মরণের দিনেই সমাজমাধ্যমে বিশেষ বার্তা দেন তিনি। দীর্ঘ তিন দশকের গৃহযুদ্ধের পর ২০০৯ সালের এই দিনটিতেই শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী গ্রাম মুল্লিভাইক্কলে পর্যুদস্ত হয় এলটিটিই এবং সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন প্রভাকরণ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিজয়ের দেওয়া বার্তা এবং প্রভাকরণের পরোক্ষ প্রশংসা ভারতের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

ভোটের অঙ্ক নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর চতুর ভোটের অঙ্ক। রাজ্যের শাসক দল টিভিকে-র অন্যতম শরিক দল ভিসিকে বরাবরই এলটিটিই-র কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফলে জোটের অটুট বন্ধন এবং রাজ্যের ভেতরের উগ্র তামিল আবেগকে নিজের পক্ষে টানতেই বিজয় এই কৌশল নিয়েছেন। অবশ্য এর আগেও গত সেপ্টেম্বরে নাগাপট্টিনমের একটি সভায় প্রভাকরণকে ‘শ্রীলঙ্কার তামিলদের কণ্ঠস্বর’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি। ফলে এবারের মন্তব্যকে তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের আশঙ্কা

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের এই ধারাবাহিক অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯৯১ সালে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে প্রভাকরণের নাম উঠে আসার পর ভারতে এলটিটিই-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে ডিএমকে বা এডিএমকে-র মতো তামিলনাড়ুর প্রধান দলগুলি তামিল আবেগকে সমীহ করলেও প্রভাকরণ ইস্যুতে সবসময় মেপে পা ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিজয়ের প্রকাশ্য এলটিটিই প্রীতি প্রতিবেশী রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *