জমি দুর্নীতিতে ধৃত সোনা পাপ্পুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই ‘চোর’ স্লোগান, বিধাননগরে ধুন্ধুমার

জমি দুর্নীতিতে ধৃত সোনা পাপ্পুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই ‘চোর’ স্লোগান, বিধাননগরে ধুন্ধুমার

কলকাতার জমি দখল ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের সিন্ডিকেট মামলায় ধৃত কুখ্যাত প্রোমোটার সোনা পাপ্পুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল সল্টলেক ও বিধাননগর এলাকায়। মঙ্গলবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) হেফাজত থেকে বের করে আদালতে পেশ করার আগে নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় এজেন্সির গাড়ি থেকে সোনা পাপ্পু নামতেই হাসপাতালে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও রোগীদের পরিজনদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে তীব্র ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

এই আকস্মিক স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে হাসপাতাল চত্বরে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী এবং ইডি আধিকারিকদের নিরাপত্তা বলয় সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে ডি‌সি শান্তনু ও সোনা পাপ্পুর যোগসূত্র

সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার (DC) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর থেকেই এই ল্যান্ড সিন্ডিকেট মামলার তদন্তে গতি বাড়িয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সল্টলেক, কসবা ও আনন্দপুর এলাকায় নিরীহ মানুষের জমি ও বাড়ি ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক লিখিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে এই সোনা পাপ্পু ছিল অন্যতম প্রধান চাঁই।

  • পদ্ধতি: সোনা পাপ্পুর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে প্রথমে জমির মালিকদের হুমকি দেওয়া হতো।
  • সুরক্ষা: আর সেই অপরাধের পেছনে প্রশাসনিক ও আইনি সুরক্ষার ছাতা হয়ে দাঁড়াতেন ধৃত প্রভাবশালী পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস।

ইতিমধ্যে সোনা পাপ্পু এবং তাঁর অপর এক সহযোগী জয় কামদারের বাড়ি ও ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে ইডির গোয়েন্দারা একাধিক ডায়েরি, মোবাইল চ্যাট এবং ডিজিটাল নথিপত্র উদ্ধার করেছেন, যেখানে কোটি কোটি টাকার কাটমানি লেনদেনের স্পষ্ট খতিয়ান রয়েছে।

জনতার ক্ষোভ এবং আদালতের দিকে নজর

কসবা ও বেলেঘাটা এলাকায় এই সিন্ডিকেটের জুলুমবাজিতে দীর্ঘদিন ধরে তিতিবিরক্ত ছিলেন সাধারণ মানুষ। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ভবানীপুরের সভা থেকে সোনা পাপ্পুর একার নামেই ২৪টি বেআইনি সম্পত্তির হদিস মেলার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ফলে আজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে নিয়ে আসার সময় সাধারণ মানুষের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভই প্রকাশ্য স্লোগান আকারে ফেটে পড়ে।

হাসপাতালের ভেতরে কড়া পাহারায় মেডিকেল টেস্ট করানোর পর বিক্ষোভের হাত থেকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি পেছনের দরজা দিয়ে সোনা পাপ্পুকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকেরা। ইডি সূত্রে খবর, এই আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা পুরোপুরি জানতে সোনা পাপ্পুকে আরও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *