ত্বিশা রহস্যমৃত্যু: ময়নাতদন্তে বাদ গেল ফাঁসের বেল্টই! ঘনীভূত হচ্ছে খুনের তত্ত্ব

ভোপালের বাসিন্দা ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের (Autopsy) প্রক্রিয়া নিয়ে এক মস্ত বড় গাফিলতির অভিযোগ সামনে এল। শ্বশুরবাড়িতে যে বেল্টটি থেকে ত্বিশার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের সময় সেই মূল উপাদান বা বেল্টটিকেই পরীক্ষা করা হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই মারাত্মক ত্রুটি সামনে আসতেই ত্বিশার মৃত্যুর পেছনে সুপরিকল্পিত খুন নাকি আত্মহত্যা— তা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে তোলপাড় ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রথম থেকেই খুনের দাবি পরিবারের, আঙুল শ্বশুরবাড়ির দিকে
ত্বিশা শর্মার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যরা দাবি করে আসছেন যে, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং তাঁকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই ত্বিশার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দিকেই সরাসরি আঙুল তুলে আসছে তাঁর পরিবার। কড়া পণের চাপ এবং মানসিক নির্যাতনের জেরেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তাঁদের প্রাথমিক অভিযোগ ছিল। এবার ময়নাতদন্তের এই নজিরবিহীন ত্রুটির কথা সামনে আসায় পরিবারের সেই খুনের দাবি আরও জোরালো হলো।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মারাত্মক গাফিলতি
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত্যু বা ঝুলে থাকার ঘটনার (Hanging Cases) ক্ষেত্রে যে উপাদান বা লিগেচার মেটেরিয়াল (Ligature Material)— যেমন দড়ি, ওড়না বা বেল্ট ব্যবহার করা হয়, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রাসায়নিক ও ফরেনসিক পরীক্ষা হওয়া অত্যন্ত বাধ্যতামূলক। গলার ফাঁসের দাগের (Ligature Mark) গভীরতা এবং সেই বেল্টের চওড়া ও উপাদানের মিল খতিয়ে দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে মৃত্যুটি জোরপূর্বক শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে নাকি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার কারণে।
কিন্তু ত্বিশার ক্ষেত্রে অভিযোগ, দেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের টেবিলে সেই বেল্টটি পাঠানোই হয়নি। ফলে গলার ক্ষতচিহ্নের সাথে বেল্টের ঘর্ষণের প্রকৃতি মেলানোর কোনো বৈজ্ঞানিক সুযোগই তদন্তকারীদের কাছে ছিল না।
তদন্তে ত্রুটির তত্ত্বে উত্তাল সামাজিক মাধ্যম
একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে কীভাবে পুলিশ ও ফরেনসিক দল এত বড় প্রমাণ বাদ দিয়ে ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করল, তা নিয়ে বর্তমানে ভোপালের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই গাফিলতির নেপথ্যে শ্বশুরবাড়ির কোনো প্রভাব বা প্রমাণ লোপাটের চক্রান্ত কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন সমাজকর্মীরা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আইনি পর্যালোচনার ইঙ্গিত মিলেছে, যাতে পুনরায় মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে এই রহস্যমৃত্যুর ফরেনসিক রিপোর্টের মূল্যায়ন করা যায়।