বিজেপি করায় কান ধরে ওঠবোস ও বিধবা করার হুমকি! পটপরিবর্তনের পরেই কাঁকসায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর

বিজেপি করায় কান ধরে ওঠবোস ও বিধবা করার হুমকি! পটপরিবর্তনের পরেই কাঁকসায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর হওয়া বিগত জমানার অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনের দ্বারস্থ হতে শুরু করলেন নিচুতলার বিরোধী কর্মীরা। বিজেপি করার অপরাধে এক দল মহিলা কর্মীকে প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে ওঠবোস করানো এবং তাঁদের সিঁথির সিঁদুর মুছে ‘বিধবা’ করে দেওয়ার মতো চরম অমানবিক ও মধ্যযুগীয় বর্বরতার অভিযোগে এবার উত্তাল হয়ে উঠল দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকা।

তৃণমূলের বিদায়ের পর সোজা কাঁকসা থানায় পৌঁছে অভিযুক্ত শাসকদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গোপালপুর উত্তর পাড়ার আক্রান্ত বিজেপি মহিলা কর্মীরা।

মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত কর্তা ও অঞ্চল প্রধান

আক্রান্ত মহিলাদের দায়ের করা এজাহার অনুযায়ী, এই ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড হলেন তৃণমূল পরিচালিত কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাধিপতি জয়জিৎ মণ্ডল এবং স্থানীয় দাপুটে তৃণমূল নেতা রমেন মণ্ডল।

অভিযোগকারিনীদের দাবি, বিগত দিনে এলাকায় একচেটিয়া সন্ত্রাস কায়েম করে রেখেছিলেন এই দুই নেতা। এলাকায় কেউ বিজেপির ঝান্ডা ধরলে বা পদ্ম শিবিরের হয়ে প্রচার করলে তাঁর ওপর নেমে আসত অবর্ণনীয় সামাজিক ও শারীরিক নির্যাতন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে মহিলারা যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন:

  • প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবোস: শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ার কারণে প্রকাশ্য দিবালোকে পাড়ার মোড়ে দাঁড় করিয়ে বিজেপিপন্থী মহিলাদের কান ধরে ওঠবোস করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
  • সিঁথির সিঁদুর মোছার হুমকি: মহিলারা যাতে আগামী দিনে আর কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নেন, তার জন্য তাঁদের স্বামীদের খুন করে ‘বিধবা’ করে দেওয়ার মতো নৃশংস হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা।

এতদিন এই প্রভাবশালী নেতাদের ভয়ে এবং পুলিশের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মহিলারা মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের পতনের পর তাঁরা নিজেদের আইনি লড়াই লড়তে সাহসী হয়ে উঠেছেন।

কঠিন শাস্তির দাবিতে সরব বিজেপি নেতৃত্ব, তদন্তে পুলিশ

সোমবার কাঁকসা থানার সামনে দাঁড়িয়ে নির্যাতিত মহিলারা এবং স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব একযোগে জয়জিৎ মণ্ডল ও রমেন মণ্ডলের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, নতুন সরকারের আমলে কোনো রকম বাহুবলী বা মাফিয়ারাজ বরদাস্ত করা হবে না। নারীদের ওপর হওয়া এই ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে।

অভিযোগপত্র জমা নেওয়ার পর কাঁকসা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা এলাকাছাড়া বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং আইন নিজের পথেই চলবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *