ভোট-পরবর্তী হিংসা ও এলাকায় দাদাগিরির অভিযোগ, অবশেষে গ্রেফতার দাপুটে তৃণমূল নেতা

ভোট-পরবর্তী হিংসা ও এলাকায় দাদাগিরির অভিযোগ, অবশেষে গ্রেফতার দাপুটে তৃণমূল নেতা

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে তৃণমূলের বাহুবলী ও প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় অভিযান আরও জোরদার হলো। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে ভোট-পরবর্তী হিংসা, সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার এবং এলাকায় একচ্ছত্র দাদাগিরি চালানোর গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো বসিরহাট মহকুমার অত্যন্ত দাপুটে তৃণমূল নেতা নারায়ণচন্দ্র কর-কে। তিনি স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এবং তেপুল মির্জাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

সোমবার গভীর রাতে স্বরূপনগর থানার পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই স্বরূপনগর ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় মূল অভিযুক্ত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, নারায়ণচন্দ্র করের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় চরম সন্ত্রাস কায়েম করার একগুচ্ছ লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর স্বরূপনগর ও তেপুল মির্জাপুর এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর এবং ভিটেমাটি ছাড়া করার পেছনে এই নারায়ণচন্দ্র কর এবং তাঁর সাগরেদদের সরাসরি মদত ও হাত ছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এতদিন শাসকদলের ছত্রছায়ায় এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে তিনি বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ ও দাদাগিরির অবসান

স্থানীয় সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদের অপব্যবহার করে নারায়ণচন্দ্র কর এলাকায় নিজস্ব একটি ক্যাডার বাহিনী তৈরি করেছিলেন। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অবৈধ কারবারে তাঁর ও তাঁর অনুগামীদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল। কেউ তাঁর এই দাদাগিরির বিরুদ্ধে মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর নেমে আসত অবর্ণনীয় শারীরিক ও সামাজিক নির্যাতন।

রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার পরেই স্বরূপনগর থানার পুলিশ এই নেতার বিরুদ্ধে পুরোনো ফাইল খোলে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সোমবার রাতে তাঁকে শ্রীঘরে পুরে দেয়।

কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস প্রশাসনের

বসিরহাট পুলিশ জেলার এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত তৃণমূল নেতা নারায়ণচন্দ্র করের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই চক্রে জড়িত তাঁর বাকি সাগরেদদের খোঁজেও জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। নতুন সরকারের স্পষ্ট বার্তা, অতীতে যাঁরা রাজনৈতিক ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুমবাজি করেছেন, আইন মেনে তাঁদের প্রত্যেককে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ধৃত নেতাকে আজই বসিরহাট আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *