ভিডিও ভাইরাল: বাড়িতে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ, কলার ধরে ধাক্কা মারতে মারতে তৃণমূল কাউন্সিলারকে নিয়ে গেল পুলিশ

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের একের পর এক কেলেঙ্কারি ও গ্রেফতারির তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি চাঞ্চল্যকর অধ্যায়। এবার নিজের বাড়িতে অবৈধ মধুচক্র (Sex Racket) চালানোর মতো অত্যন্ত গুরুতর ও লজ্জাজনক অভিযোগে গ্রেফতার হলেন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পৌরনগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুকুমার রায়। গ্রেফতারির সময় পুলিশ যেভাবে ওই কাউন্সিলারকে জামার কলার ধরে এবং ধাক্কা মারতে মারতে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যায়, সেই নাটকীয় মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুৎ গতিতে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁ শহরসহ রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র থুথুকার ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‘স্যার আমি কিছু জানি না’, পুলিশের পায়ে ধরার আর্তি কাউন্সিলারের

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ যখন কাউন্সিলার সুকুমার রায়ের বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করে, তখন তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজের অপরাধ ঢাকতে সুকুমারকে বারবার বলতে শোনা যায়, “স্যার, আমি এই ব্যাপারে কিচ্ছু জানি না! আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

এমনকি ধাক্কা মারতে মারতে যখন তাঁকে ঘর থেকে বের করা হচ্ছিল, তখন তিনি পকেট থেকে মোবাইল বের করে তড়িঘড়ি তাঁর কোনো এক প্রভাবশালী পরিচিতকে ফোন লাগান। ফোনে অত্যন্ত অসহায়ভাবে সুকুমারকে বলতে শোনা যায়:

“ভাই, পুলিশ আমায় কলার ধরে ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছে! জলদি কিছু করো!”

ঠিক সেই মুহূর্তেই এক পুলিশ আধিকারিক ধমক দিয়ে কাউন্সিলারের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন এবং তাঁকে প্রায় টানতে টানতে পুলিশের গাড়িতে গিয়ে তোলেন।

গোপন ডেরায় হানা, আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার একাধিক যুবতী

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশীদের মনে নানা সন্দেহ দানা বাঁধছিল। অভিযোগ, কাউন্সিলারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে তাঁর নিজের বাসভবনটিকে একটি হাই-প্রোফাইল মধুচক্রের আখড়া বানিয়ে তোলা হয়েছিল। যেখানে ওপার বাংলা (বাংলাদেশ) এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেয়েদের নিয়ে এসে দিনের পর দিন দেহব্যবসা চালানো হতো। প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় এতদিন প্রতিবেশীরা ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাননি।

কিন্তু রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার গঠনের পর এবং পুলিশের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ সরতেই সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁ থানার পুলিশ ওই বাড়িতে আকস্মিক হানা দেয়। পুলিশ ভেতরে ঢুকতেই চোখ চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। বাড়িটির ভেতর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় বেশ কয়েকজন যুবক ও যুবতীকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।

নতুন জমানায় মাফিয়ারাজ খতমের স্পষ্ট বার্তা

কাউন্সিলারের এই কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই বনগাঁর বিজেপি নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। বিজেপির দাবি, বিগত সরকারের জমানায় এই তৃণমূল নেতারা পুলিশের খাঁকি উর্দির তোয়াক্কা না করে এলাকায় সমস্ত ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেট ও মধুচক্রের সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল। নতুন সরকারের স্পষ্ট নীতি মেনে এই ধরনের অপরাধীদের সমাজে কোনো স্থান হবে না।

বনগাঁ থানার এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলার সুকুমার রায়ের বিরুদ্ধে ইম্মোরাল ট্রাফিকিং (Immoral Traffic Prevention Act) এবং অবৈধ কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্রের পেছনে আর কোনো বড় মাথার হাত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃত কাউন্সিলারকে আজই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *