সরকার বদলাতেই অ্যাকশন, এবার পুলিশের জালে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা শ্রীদাম!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল সম্পন্ন হতেই রাজ্যজুড়ে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। এবার খবরের শিরোনামে আবারও উঠে এলো সন্দেশখালি। সন্দেশখালি ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ নেতা শ্রীদাম হাওলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সন্দেশখালি থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। একই সাথে স্বরূপনগর এলাকা থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে।
জমি দখল ও পুরনো অপরাধের জের
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত শ্রীদাম হাওলির বিরুদ্ধে ২০১৫ সাল থেকে একাধিক বেআইনি জমি দখল এবং মারামারির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে এই জমি দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি মামলাও দায়ের হয়েছিল। তবে বিগত সরকারের আমলে সন্দেশখালির তৎকালীন ‘প্রভাবশালী’ নেতা শেখ শাহজাহানের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এতদিন অবাধে ঘুরে বেড়ালেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই শ্রীদামকে আইনের মুখোমুখি হতে হলো।
স্বরূপনগরেও পুলিশি তৎপরতা
সন্দেশখালির পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরেক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নারায়ণ করকে। তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে সে পুলিশের নাগালের বাইরে থাকলেও, অবশেষে সোমবার রাতে তাকেও পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে।
প্রভাব ও প্রশাসনিক কঠোরতা
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই এতদিন ধরে অধরা থাকা জেলা স্তরের প্রভাবশালী অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের গ্রেপ্তার করা সহজ হচ্ছে। এই জোড়া গ্রেপ্তারের ফলে সন্দেশখালি ও স্বরূপনগর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ভীতি কিছুটা কমবে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুজ্জীবিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। জেলায় জেলায় চলা এই পুলিশি অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।