তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের মাথা কাটলে ১ কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা, বিজেপি নেতার ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য!

তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের মাথা কাটলে ১ কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা, বিজেপি নেতার ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য!

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও সহিংস মন্তব্য করার অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। রাজ্যটির বুলন্দশহরের সিকন্দরাবাদ নগরপালিকার চেয়ারম্যান তথা বিজেপি নেতা প্রদীপ দীক্ষিতের একটি বিস্ফোরক ভিডিও সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, সায়নী ঘোষের মাথা কেটে এনে দিতে পারলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত ও ভাইরাল ভিডিও

মূল ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের সিকন্দারাবাদে হিন্দু সংগঠনগুলির আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে। ২০১৫ সালে সায়নী ঘোষের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ভগবান শিবকে নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট করা হয়েছিল, যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছে। হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, ওই পোস্টের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। এই ইস্যুতেই আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে প্রদীপ দীক্ষিতের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে সায়নী ঘোষের মাথা কাটার বিনিময়ে কোটি টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করতে শোনা যায়। যদিও ঘটনার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই বিজেপি নেতা।

প্রত্যাখ্যান ও প্রযুক্তির কারসাজির দাবি

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রদীপ দীক্ষিত। তাঁর দাবি, তিনি ওই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এমন কোনো হিংসাত্মক মন্তব্য করেননি। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কিছু দুষ্কৃতী এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিওটি বিকৃত বা ডিপফেক করে ছড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

উল্লেখ্য, শিব সংক্রান্ত ওই বিতর্কিত পোস্টটির পর সায়নী ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তাঁর সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তিনি বিজয়ী হওয়ার পরও এই পুরোনো ইস্যুটি নিয়ে বিরোধীরা বারবার তাঁকে নিশানা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের চরমপন্থী মন্তব্য ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনাটি দুই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতিসহ দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই ভাইরাল ভিডিও এবং পুরস্কারের ঘোষণার বিষয়ে সাংসদ সায়নী ঘোষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *