অন্তঃসত্ত্বা শরীরেও ১৩ ঘণ্টার একটানা নাচ, ‘ডোলা রে ডোলা’র নেপথ্যে মাধুরীর চরম অগ্নিপরীক্ষা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘দেবদাস’-কে রুপোলী পর্দায় এক মহাকাব্যিক রূপ দিয়েছিলেন পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালী। বক্সঅফিসে ইতিহাস গড়া এই ছবির অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন ও মাধুরী দীক্ষিতের যুগলবন্দিতে ‘ডোলা রে ডোলা’ গানটি। তবে এই কালজয়ী সৃষ্টি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে মাধুরী দীক্ষিতকে যে চরম শারীরিক ও মানসিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা এতকাল ছিল আড়ালেই। সম্প্রতি প্রয়াত নৃত্যশিল্পী সরোজ খানের সহকারী রুবীনা খানের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে সেই রোমাঞ্চকর ও কঠিন অভিজ্ঞতার কথা।
১৭ দিনের শুটিং এবং এক স্টেপেই ১৩ ঘণ্টা
‘ডোলা রে ডোলা’ গানের পুরো শুটিং শেষ করতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ ১৭ দিন। কিন্তু পর্দার নিখুঁত সৌন্দর্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল হাড়ভাঙা খাটুনি। রুবীনা জানান, গানের একটি বিশেষ দৃশ্যে মাধুরীকে গোল করে ঘুরে এসে মাটিতে বসতে হত। নৃত্যপরিচালক সরোজ খানের মনের মতো করে সেই একটিমাত্র ছোট্ট স্টেপ নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দি করতেই কেটে গিয়েছিল টানা ১৩ ঘণ্টা। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত চলেছিল সেই বিরতিহীন নাচ।
কঠিন পরিস্থিতির কারণ ও প্রভাব
এই কঠিন ও পরিশ্রমসাধ্য শুটিংয়ের মূল চ্যালেঞ্জটি ছিল মাধুরীর শারীরিক অবস্থা। ছবির চুক্তিতে সই করার সময় এবং এই গানের শুটিং চলাকালীন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে অনবরত গোল হয়ে ঘোরার ফলে তীব্র শারীরিক চাপের সৃষ্টি হয়েছিল, যার জেরে ক্রমাগত মাথা ঘুরত অভিনেত্রীর। শুটিং শেষ হওয়ার পরও তীব্র মাথা ঘোরা ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগেছিলেন তিনি।
তবে এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও পেশাদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন মাধুরী। পরিচালক কিংবা নৃত্যপরিচালকের কড়া নির্দেশনার সামনে নিজের শারীরিক অসুস্থতাকে কখনো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেননি তিনি। গুরু সরোজ খানের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে একটিবারের জন্যও নাচের কোনো স্টেপ সহজ করার অনুরোধ জানাননি এই অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত মাধুরীর এই অনবদ্য আত্মত্যাগ ও সহনশীলতাই গানটিকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে তুলেছে।