নকল আঙুল বিতর্কে জড়ানো ফিরহাদ-ঘনিষ্ঠ দেবলীনার আকস্মিক ইস্তফা, নেপথ্যে কি কালীঘাটের মেগা অ্যাকশন

কলকাতা পুরসভার রাজনীতিতে এক তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করে পদত্যাগ করলেন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ৯ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস। মঙ্গলবার চিঠির মাধ্যমে তিনি বরো প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়লেও তিনি কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট করেছেন। প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর আকস্মিক পদত্যাগ কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন ঝড় তুলেছে।
নিজের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ধোঁয়াশা বজায় রেখে দেবলীনা বিশ্বাস জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের কাজের স্বার্থে এবং সম্পূর্ণ দলগত কারণেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবলীনার এই ইস্তফা কেবল কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক টানাপোড়েন।
ভিআইপি এলাকায় পুরসভার নোটিস ও অভ্যন্তরীণ চাপ
কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোর ভৌগোলিক এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড এবং প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির মতো অতি ভিআইপি এলাকাগুলি। ঘটনাচক্রে, দেবলীনার ইস্তফার ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা আগেই এই সমস্ত এলাকার ১৭টি হাইপ্রোফাইল ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস পাঠিয়েছিল পুরসভা। এই তালিকায় খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক সংস্থা এবং তাঁর বাবা-মায়ের নাম জড়িয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাস কালীঘাটের অন্দরে পুরসভার এই ‘মেগা অ্যাকশন’ এবং নতুন সরকারের প্রশাসনিক কড়াকড়ি সামলাতে গিয়েই শাসকদলের অন্দরে আড়াআড়ি চাপ তৈরি হয়েছে, যার জেরে পদ ছাড়তে বাধ্য হলেন বরো প্রধান।
ফিরে এল ‘সিলিকন ফিঙ্গার’ বিতর্ক
এই নাটকীয় ইস্তফার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বিগত বিধানসভা নির্বাচনের এক বিতর্কিত অধ্যায়। হাইপ্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত এই ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাসের বিরুদ্ধেই নির্বাচনের সময় মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, ভবানীপুরে দেদার ভোট লুট এবং গণছাপ্পা মারার উদ্দেশ্যে এই তৃণমূল কাউন্সিলর বিপুল পরিমাণে ‘সিলিকন ফিঙ্গার’ বা কৃত্রিম নকল আঙুল আনিয়েছিলেন। সেই সময় এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এবং অভিষেকের বাড়িতে পুরসভার নোটিস জারির পরদিনই সেই বিতর্কিত নেত্রীর পদত্যাগ শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই স্পষ্ট করে তুলছে।