নেট বোলার থেকে স্বপ্নের নীল জার্সি, আফগান টেস্টে ভারতীয় দলের নতুন চমক পাঞ্জাবের গুরনুর ব্রার

কঠিন পরিশ্রম আর ধারাবাহিকতা যে কোনো ক্রিকেটারের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে উঠলেন পাঞ্জাবের জোরে বোলার গুরনুর ব্রার। বছর কয়েক আগেও যিনি আইপিএলের নেটে তারকা ব্যাটারদের বল করতেন, আজ তিনি ভারতের মূল টেস্ট স্কোয়াডে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টের জন্য ঘোষিত ভারতীয় দলে এই ডানহাতি পেসারের অন্তর্ভুক্তি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল ইতিবাচক বার্তা। প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়ে গুরনুর এখন ভারতীয় ক্রিকেট মহলের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়।
নির্বাচকদের নজর কাড়ার নেপথ্য কারণ
গুরনুরের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে গত দু’বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে অভাবনীয় ধারাবাহিকতা। ২০২২ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হলেও ২০২৪-২৫ মরসুমটি ছিল তাঁর কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। রঞ্জি ট্রফিতে পাঞ্জাবের হয়ে মাত্র ৭ ম্যাচে ২৬টি উইকেট নিয়ে তিনি দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হন। পুরো মরসুমে ১২ ম্যাচে ২৫.৬৬ গড়ে মোট ৩৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি, যেখানে তাঁর ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৩.৪৩। বিহারের বিরুদ্ধে মাত্র ১৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করা ছিল তাঁর অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।
গতি, সুইং ও বৈচিত্র্যের যুগলবন্দি
গুরনুর ব্রারের প্রধান শক্তি তাঁর শারীরিক উচ্চতা, যা তাঁকে যেকোনো উইকেটে বাড়তি বাউন্স পেতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি নতুন বলে দুই দিকেই সুইং করানোর সহজাত দক্ষতা রয়েছে তাঁর। শুধু লাল বলের ক্রিকেটেই নয়, সাদা বলের ক্রিকেটেও তিনি সমান পারদর্শী। ২০২৪ সালের শের-ই-পাঞ্জাব টি-২০ লিগে ১১ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে লাইমলাইটে আসেন তিনি। ২০২৩ সালে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে আইপিএল অভিষেক হওয়ার পর, ২০২৫ সালের মেগা নিলামে গুজরাত টাইটান্স ১.৩০ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নেয়। এছাড়াও লোয়ার-অর্ডারে নেমে ব্যাট হাতে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা গুরনুরকে একজন কার্যকরী অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সম্ভাবনা
২০১৯ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নেট বোলার হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইন্ডিয়া ‘এ’ দল হয়ে আজ সিনিয়র দলে জায়গা পাওয়া গুরনুরের এই উত্থান ভারতীয় পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে প্রথম একাদশে সুযোগ পাবেন কি না তা সময়ই বলবে, তবে জসপ্রীত বুমরাহ বা মহম্মদ শামিদের উত্তরসূরি হিসেবে লাল বলের ক্রিকেটে লম্বা স্পেলে বল করার মতো একজন প্রতিভাবান পেসারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত রাখাই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের মূল লক্ষ্য।