অলিম্পিকে সোনা জিতলে এবার ৮ কোটি, বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পুরস্কার ঘোষণা ক্রীড়ামন্ত্রীর

অলিম্পিকে সোনা জিতলে এবার ৮ কোটি, বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পুরস্কার ঘোষণা ক্রীড়ামন্ত্রীর

বাংলার ক্রীড়াবিদদের বিশ্বমঞ্চে উদ্বুদ্ধ করতে একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস কিংবা কমনওয়েলথ গেমসের মতো মেগা ইভেন্টে পদকজয়ীদের জন্য পুরস্কার মূল্য একধাক্কায় বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এই মেগা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্য ক্রীড়ামন্ত্রককে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটি তারই অংশ।

পুরস্কার মূল্যে নজিরবিহীন বৃদ্ধি

বিগত সরকারের আমলে বাংলার কোনো ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে সোনা জিতলে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২৫ লক্ষ টাকা। নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ী বাংলার ক্রীড়াবিদ পাবেন নগদ ৮ কোটি টাকা। একইভাবে অলিম্পিকে রুপো এবং ব্রোঞ্জজয়ীদের পুরস্কার মূল্য যথাক্রমে ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটি এবং ৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অলিম্পিকের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাতেও পুরস্কারের অঙ্ক বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে ৫ কোটি, কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলে দেড় কোটি, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলে ২ কোটি এবং ন্যাশনাল গেমসে সোনা জয়ের ক্ষেত্রে ৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল ক্রীড়াবিদদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ডিএসপি পদমর্যাদা পর্যন্ত সরকারি চাকরি দেওয়ার বড় সিদ্ধান্তও নিয়েছে মন্ত্রক।

ক্রীড়া মহোৎসব ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চল ও জেলাগুলি থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ১২টি খেলা নিয়ে আয়োজিত হবে বিশেষ ‘ক্রীড়া মহোৎসব’। জেলা স্তরের পর এই উৎসবের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। এছাড়া খেলো ইন্ডিয়া এবং সাই (SAI)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে রাজ্যের নবগঠিত অ্যাডভাইসারি কমিটি। পাশাপাশি, রাজ্যে সার্বিকভাবে জাতীয় ক্রীড়া নীতি প্রয়োগ করা হবে এবং রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে অলিম্পিক পর্যায়ের আধুনিক ট্র্যাক স্থাপন করা হবে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন ধরে বাংলার ক্রীড়াবিদদের পরিকাঠামোগত অভাব এবং অপর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার কারণে ক্ষোভ ছিল। ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা রুখতেই রাজ্য সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই বিপুল আর্থিক পুরস্কার এবং সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা প্রান্তিক স্তরের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই করার ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক ও আর্থিক বল জোগাবে। জেলার প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির ফলে আগামী দিনে অলিম্পিকের মতো মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব ও পদক জয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে থাকা বিতর্কিত ও ‘অদ্ভুত’ মূর্তিটি সরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্তদপ্তরকে। সেখানে আগামী দিনে বাংলার কোনো কিংবদন্তি ফুটবলারের মূর্তি স্থাপন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *