হাবড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত জ্যোতিপ্রিয় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ তথা তৃণমূলের শ্রমিক নেতা তারক দে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অটো এবং টোটোচালকদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ধৃত নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়, যা নিয়ে হাবড়া থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
শ্রমিক নেতার দাপট ও তোলাবাজির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার অরবিন্দ রোডের বাসিন্দা তারক দে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। সেই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই তিনি আইএনটিটিইউসি-র শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব পান। অভিযোগ, হাবড়া-ফুলতলা রুটসহ শহরের প্রায় ৩৭টি অটো ও টোটো রুট কার্যত একছত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করা হতো এবং কোনো চালক এই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে হুমকি ও নানাভাবে হেনস্তার মুখে পড়তে হতো। এছাড়া হাবড়া উৎসবের নাম করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ঘটনার কারণ ও আইনি পদক্ষেপ
গত শনিবার ফুলতলা এলাকার এক টোটোচালক তারক দের বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চালকদের ওপর দীর্ঘদিনের এই আর্থিক শোষণ ও অত্যাচারের ক্ষোভের জেরেই এই অভিযোগ দায়ের হয়। এর ভিত্তিতেই সোমবার গভীর রাতে টাকি রোড সংলগ্ন বিবেকানন্দ পল্লি এলাকা থেকে তারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে তৃণমূলের অন্দরে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজ্যজুড়ে দলীয় ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এই ঘটনা তারই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষ ও চালকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে থানার সামনের বিক্ষোভে। তবে এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছে যে, দল অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সমাদ্দার এই বিষয়ে জানান, যাঁরা দলকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করেছেন, পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।