রাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দিয়ে ভোরেই ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল মেটা!

রাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দিয়ে ভোরেই ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করল মেটা!

তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্বে ফের বড়সড় ধাক্কা দিল মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা। এক ধাক্কায় প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করল এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট, যা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। তবে এই ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাতে আকস্মিকভাবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দিয়ে, ভোর হতেই ইমেলের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে বিদায় জানানো হয়েছে।

সংস্থার এই সিদ্ধান্তের প্রথম ধাক্কাটি আসে মেটার সিঙ্গাপুর অফিসে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টে নাগাদ কর্মীদের কাছে ছাঁটাইয়ের মেল পৌঁছাতে শুরু করে। এরপর বিভিন্ন দেশের সময় অঞ্চল অনুযায়ী ধাপে ধাপে বাকি কর্মীদের কাছেও এই বার্তা পাঠানো হয়। অফিসে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, বৈঠক বা সহকর্মীদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতেই মেটা এই নিঃশব্দ ছাঁটাইয়ের কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুনর্গঠন ও কৃত্রিম মেধার প্রভাব

মেটার এই গণছাঁটাইয়ের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI)-এর দিকে সংস্থার ঝুঁকানি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তন। বর্তমানে ৭৮ হাজার কর্মীর এই সংস্থায় বড়সড় রদবদল আনা হচ্ছে। মেটার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান জ্যানেল গেলের অভ্যন্তরীণ বার্তা অনুযায়ী, ৭ হাজার কর্মীকে নতুন কৃত্রিম মেধাভিত্তিক দলে স্থানান্তরিত করা হবে। এছাড়া প্রায় ৬ হাজার শূন্যপদ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবস্থাপনার একাধিক স্তর কমিয়ে আনা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পণ্য উন্নয়ন (প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট) বিভাগের কর্মীরা।

নজরদারি বিতর্ক ও অসন্তোষ

এই ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে কর্মীদের ওপর গোপন নজরদারির একটি বড় বিতর্কও প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেটা তাদের কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া এবং কী-বোর্ড ব্যবহারের তথ্য ট্র্যাক করছিল, যা পরবর্তীতে কৃত্রিম মেধা প্রশিক্ষণের কাজে লাগানো হচ্ছিল। এই নজরদারির প্রতিবাদে ইতিপূর্বেই এক হাজারের বেশি কর্মী স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। মেটার অফিসে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন আগে থেকেই থাকায় কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে অনেকেই আগেভাগে অফিস থেকে অতিরিক্ত খাবার ও ল্যাপটপের চার্জার নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তি শিল্পে স্থায়ী বদলের ইঙ্গিত

মেটার এই পদক্ষেপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারের বর্তমান সংকটের একটি বড় প্রতিফলন। মেটা ছাড়াও সিসকো, মাইক্রোসফ্‌ট, অ্যামাজন, ডিসনি এবং ওব়্যাকলের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে কর্মী ছাঁটাই ও স্বেচ্ছাবসরের পথ বেছে নিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সাময়িক কোনো আর্থিক মন্দা নয়, বরং প্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম মেধার উত্থানের ফলে একটি স্থায়ী কাঠামোগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। এর ফলে চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *