নিশ্চিত আয়ের ভরসা দিচ্ছে পোস্ট অফিসের মান্থলি ইনকাম স্কিম

শেয়ার বাজারের ওঠা-নামা এবং আর্থিক ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষেরা সবসময় একটি নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম খোঁজেন। এই চাহিদার কথা বিবেচনা করে পোস্ট অফিসের মান্থলি ইনকাম স্কিম (এমআইএস) বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি মূলত একটি সম্পূর্ণ সরকারি ও সুরক্ষিত প্রকল্প, যেখানে মাত্র একবার বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের নিশ্চিত আয় করার সুযোগ রয়েছে। টাকা হারানোর কোনো আশঙ্কা না থাকায় এটি নিরাপদ সঞ্চয়ের একটি চমৎকার মাধ্যম।
বিনিয়োগের সীমা ও আকর্ষণীয় আয়ের সুযোগ
এই সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট আইনি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি একক নামে অ্যাকাউন্ট খুললে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা রাখতে পারবেন। তবে যৌথ বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়। বর্তমানে এই স্কিমে ৭.৪ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করা হচ্ছে, যা প্রতি মাসে সরাসরি বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। উল্লেখ্য, প্রতি তিন মাস অন্তর সরকার এই প্রকল্পের সুদের হার পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করে থাকে।
হিসেব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি যৌথ অ্যাকাউন্টে এককালীন ১৫ লক্ষ টাকা জমা রাখেন, তবে বর্তমান সুদের হার অনুসারে তিনি ঘরে বসেই প্রতি মাসে প্রায় ৯,২৪৯ টাকা আয় করতে পারবেন, যা নিয়মিত পারিবারিক খরচ চালাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই বিনিয়োগের ফলে বছরে প্রায় ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা সুদ পাওয়া সম্ভব। ফলে ৫ বছরের মেয়াদ শেষে শুধুমাত্র সুদ বাবদ মোট উপার্জনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা।
মেয়াদ ও আগাম টাকা তোলার নিয়ম
পোস্ট অফিসের এই বিশেষ স্কিমের মোট মেয়াদ ৫ বছর। তবে এই প্রকল্পের কিছু নিজস্ব নিয়মাবলি রয়েছে, যা বিনিয়োগের আগে জেনে নেওয়া জরুরি। টাকা জমা করার পর প্রথম ১ বছরের মধ্যে এই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনোভাবেই টাকা তোলা যায় না এবং অ্যাকাউন্ট বন্ধ করারও কোনো অনুমতি থাকে না। জরুরি প্রয়োজনে ১ বছর পর থেকে ৩ বছরের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে জমানো মূল টাকা থেকে ২ শতাংশ জরিমানা কেটে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ৩ বছর পার হওয়ার পর কিন্তু ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলে ১ শতাংশ টাকা জরিমানা হিসেবে কাটা হয়।
কর সংক্রান্ত বিধিমালা
এই স্কিমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আয়কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায় না। অর্জিত সুদের আয় বিনিয়োগকারীর মোট বার্ষিক উপার্জনের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ব্যক্তির নিজস্ব ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী তা করযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, পোস্ট অফিস এই সুদের টাকা দেওয়ার সময় উৎস থেকে কোনো কর বা টিডিএস (TDS) কাটে না। ফলে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং ঝুঁকিমুক্ত স্থায়ী উপার্জনের জন্য এই প্রকল্প সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।