ফলতায় ভরাডুবি, ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড ভাঙার মুখে ৮ তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ!

ফলতায় ভরাডুবি, ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড ভাঙার মুখে ৮ তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ!

ফলতা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় বিপর্যয় ও জামানত জব্দের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক ভূমিকম্প দেখা দিল ডায়মন্ড হারবার পুরসভায়। দলের অন্দরে জমতে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সোমবার পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে একযোগে ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফলতায় গেরুয়া শিবিরের জয়ের পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ কার্যত ধরাশায়ী হলো। এই গণ-ইস্তফার জেরে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শাসকদল পরিচালিত এই পুরবোর্ড।

দুর্নীতি ও পুলিশি অত্যাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ

পদত্যাগী কাউন্সিলরদের অভিযোগ মূলত পুরসভার অভ্যন্তরীণ আর্থিক দুর্নীতি এবং পুলিশ-প্রশাসনের একাংশের অকথ্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অমিত সাহা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, বোর্ড মিটিং ছাড়াই প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বেআইনিভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় শাসকদলের কাউন্সিলরদেরই প্রশাসনের কোপে পড়তে হয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদার পুলিশের বিরুদ্ধে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। পদত্যাগীদের দাবি, নির্বাচিত পুরবোর্ড থাকলেও সেটি আসলে চালাত পুলিশ ও প্রশাসন, যেখানে চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরদের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই তাঁরা অবশেষে মুখ খোলার সাহস পেয়েছেন বলে জানান।

ভাঙনের মুখে পুরবোর্ড ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

১, ২, ৭, ৮, ৯, ১১, ১৩ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা ডায়মন্ড হারবার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, আরও দুটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দ্রুত অনলাইনে ইস্তফা দিতে পারেন। যদি তা সত্যি হয়, তবে ২০২৭ সালের নির্ধারিত মেয়াদের আট মাস আগেই ভেঙে পড়বে এই পুরবোর্ড। এদিকে পদত্যাগী কাউন্সিলররা এখনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পাল্টাচ্ছে। বিরোধী দল সিপিএম এই ঘটনাকে ‘তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া’ বলে কটাক্ষ করেছে। এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের ফলে ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ যে বড়সড় ধাক্কা খেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *