দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার সিপিএমের! ভেতর থেকে মিলল পুরসভার বালতি ও সরকারি ত্রাণের স্তূপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ ছয় বছর পর তৃণমূলের হাত থেকে নিজেদের হাতছাড়া হওয়া দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করল সিপিএম। কলকাতা পুরসভার সার্ভে পার্ক থানা এলাকার পূর্ব রাজাপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে কার্যালয়টি নিজেদের দখলে নেওয়ার পর তার ভেতর থেকে যে পরিমাণ সরকারি সামগ্রী এবং নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে এক বড়সড় বিতর্ক।
২০২০ সালে কার্যালয় দখলের অভিযোগ
সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, গত ২০২০ সালে মহামারী ও লকডাউনের আবহে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পূর্ব রাজাপুরের এই দলীয় কার্যালয়টি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এরপর থেকে সেটিকে তৃণমূলের শাখা কার্যালয় হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক জনাদেশ পরিবর্তনের পর, সম্প্রতি বাম কর্মীরা সমবেত হয়ে ওই কার্যালয়টি পুনরুদ্ধার করেন এবং সেখানে পুনরায় নিজেদের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
ভেতর থেকে উদ্ধার সরকারি ত্রাণ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি
কার্যালয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সিপিএম কর্মীরা সেটির ভেতরে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় সবার। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা দেখে উঠছে একাধিক দুর্নীতির প্রশ্ন। উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে:
- সরকারি ত্রাণের প্রচুর পরিমাণ ত্রিপল
- বিপুল সংখ্যক হাঁড়ি, কড়াই এবং স্টোভ
- জরুরি পরিষেবার অক্সিজেন সিলিন্ডার
- কলকাতা পুরসভার (KMC) লোগো দেওয়া প্রচুর বালতি
পৌরসভা বা সরকারি গুদামে থাকার কথা যে সমস্ত সামগ্রী, তা কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম নেতৃত্ব। এ ছাড়া, ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে সাধারণ মানুষের জমির মিউটেশন সংক্রান্ত প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র এবং একটি এয়ারগানের লাইসেন্স। এই সমস্ত সরকারি নথিপত্র ব্যবহার করে কোনো বেআইনি জমি দখলের কারবার বা জালিয়াতি চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে সিপিএম। অন্য দিকে, এই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।