কী ঘটেছিল ১২ মে রাতে, ত্বিশার মৃত্যুরহস্যভেদে ভোপালের বাড়িতে ডামি নিয়ে সিবিআই!

ভোপালের কাতারা হিলসের শ্বশুরবাড়ি থেকে তরুণী ত্বিশা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের জট খুলতে মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। গত ১২ মে রাতের সেই রহস্যময় ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে এবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ করলেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পেতে এবং অভিযুক্তদের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতেই সিবিআই-এর এই বিশেষ পদক্ষেপ।
ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে ত্বিশার আনুমানিক শারীরিক ওজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কৃত্রিম পুতুল বা ‘ডামি’ ব্যবহার করে ঘটনার পুনর্গঠন করা হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে হওয়া এই অনুশীলনে ঘটনাস্থলে হাজির রাখা হয়েছিল মামলার দুই মূল অভিযুক্ত—ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিংহ ও শাশুড়ি গিরিবালাকে। ঘটনার রাতে তাঁদের ভূমিকা এবং দেওয়া বয়ানের সত্যতা মেলাতেই মূলত এই ডামি মহড়া চালানো হয়। এর মাধ্যমে সিবিআই ঘটনার একটি নিখুঁত সময়সরণি বা টাইমলাইন তৈরি করতে চাইছে, যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বয়ানের অসঙ্গতি ও ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
ত্বিশার স্বামীর দাবি অনুযায়ী, ১২ মে রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ ত্বিশা ছাদে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি দেহটি ওপরের দিকে তুলে ধরেন এবং তাঁর মা দড়ির ফাঁস আলগা করে দেহটি নিচে নামান। এরপর রাত ১২টা ৫ মিনিটে ভোপাল এমস হাসপাতাল থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এই তত্ত্বে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ গলায় ফাঁস হওয়া উল্লেখ থাকলেও, ত্বিশার শরীরে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রাথমিকভাবে ভোপাল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্ত শুরু করলেও, ঘটনার গুরুত্ব এবং পারিপার্শ্বিক জটিলতার কারণে পরবর্তীতে এই মামলার দায়িত্বভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অভিযুক্তদের বয়ানের মধ্যেকার এই অমিলই এখন সিবিআই-এর তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে পাওয়া ফরেনসিক তথ্য আগামী দিনে ত্বিশার মৃত্যুরহস্যের চূড়ান্ত কিনারা করতে এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।