রানি রাসমণি রোডে মিলল না অনুমতি, মমতার হাইভোল্টেজ ধরনা ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা

ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত ধরনা কর্মসূচি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামীকাল, ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই ধরনা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে দুপুর ২টো থেকে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। তবে কর্মসূচির মাত্র একদিন আগে পুলিশের পক্ষ থেকে রানি রাসমণি রোডে বসার অনুমতি না মেলায় চরম সমস্যায় পড়েছে ঘাসফুল শিবির।
বিকল্প প্রস্তাব ও তৃণমূলের অবস্থান
পুলিশের পক্ষ থেকে রানি রাসমণি রোডের পরিবর্তে ধর্মতলার ‘Y’ চ্যানেলে বিকল্প হিসেবে ধরনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এই সংক্ষিপ্ত সময়ের শর্ত এবং বিকল্প স্থানের প্রস্তাবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথমিকভাবে রাজি হয়নি। ফলে আগামীকালকের এই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক কর্মসূচি আদৌ নির্ধারিত সূচি মেনে সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও দলীয় পদক্ষেপ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অতীতে বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন বিরোধী আসনে ছিলেন, তখন তাঁর বিভিন্ন ধরনা কর্মসূচিতে পুলিশি অনুমতি না মেলার কারণে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। এবার খোদ শাসক দলের শীর্ষ নেত্রীর কর্মসূচিতে পুলিশি অনুমতি না মেলায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
এরই মধ্যে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ তোলা দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে এই জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আনার পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল এবং ধরনার অনুমতি ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।