ক্ষমতা হারাতেই কি তৃণমূলের অন্দরে চরম ভাঙন, বিস্ফোরক প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়!

ক্ষমতা হারাতেই কি তৃণমূলের অন্দরে চরম ভাঙন, বিস্ফোরক প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়!

১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্য চলে এসেছে। বিধায়কদের সই জালের অভিযোগ এবং দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কারের পর এবার সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়। গত শনিবার তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনার পর দলের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ না নেওয়ায় তীব্র অভিমান ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ডামাডোলকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও ক্ষোভের কারণ

একমাস আগেও যে ঘাসফুল শিবির নিজেদের সংগঠনকে অত্যন্ত মজবুত বলে দাবি করত, ক্ষমতাচ্যুত হতেই তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের অভিযোগ, বর্তমানে চারিদিকে যখন সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়ক-সাংসদরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন রাজ্য নেতৃত্ব তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। দলের ওপর শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সঠিক সংগঠনের অভাবেই আজ এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতীতে দল খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও এমন নেতৃত্বহীনতা ও উদাসীনতা কখনো দেখা যায়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ত্রাণ বিতর্ক ও হামলার নেপথ্যে

গত শনিবার মধ্য হাওড়ার কাসুন্দিয়ায় অরূপ রায়ের বাড়ির সামনের একটি গোডাউন থেকে প্রচুর পরিমাণে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল ও শাড়ি-ধুতি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় তাঁর বাড়ির সামনে চোর চোর স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়। অরূপ রায়ের দাবি, তিনি আগেই জেলাশাসককে এই ত্রাণের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন যখন তা সরাতে যায়, তখন বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়। এই ঘটনার পর দলের কোনো নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বা খোঁজখবর না করায় দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ও অভিমান স্পষ্ট হয়েছে।

পৌর নির্বাচনের আগে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

সামনেই রাজ্যের পৌরসভা নির্বাচন, অথচ এই কঠিন সময়ে দলকে চাঙ্গা করার বিষয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে শীর্ষ নেতৃত্বই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এমনকি আসন্ন নির্বাচনে তিনি নিজে প্রচারে নামবেন কিনা, তা নিয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা সামলানোর আগেই দলের অন্দরে এমন সমন্বয়হীনতা, বিধায়ক বহিষ্কার এবং হেভিওয়েট নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা আগামী দিনে তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও নির্বাচনী পারফরম্যান্সের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *