৩ দিনের মধ্যে বদলাবে কৈখালি, হলদিরামের চেহারা, কড়া নির্দেশ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কৈখালির হলদিরাম চত্বর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রতি বছরই বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হলেই এই এলাকায় তৈরি হয় চরম দুর্ভোগ। নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে নাজেহাল হন সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীরা। সামনেই বর্ষা, তাই এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এবার সরাসরি গ্রাউন্ড জিরোয় নেমে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আগামী তিন দিনের মধ্যে হলদিরাম চত্বরে নতুন ম্যানহোল তৈরি করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে কেএমডিএ (KMDA), আরভিএনএল (RVNL) ও হিডকোকে (HIDCO) একসঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগের সরকারের গাফিলতি ও বর্তমান সংকট
এলাকার জলমগ্ন পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের অপরিকল্পিত পরিকাঠামোকেই দায়ী করেছেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা ও ভোট পাওয়ার জন্য প্রতিটি ম্যানহোল ঢেকে তার ওপর পেভার ব্লক বসিয়ে দিয়েছিল। নিচে ম্যানহোল রেখে ওপরে পেভার ব্লক বসানোর মতো অবৈজ্ঞানিক কাজের কারণে বর্তমানে নিকাশি নালাগুলির অবস্থান চিহ্নিত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও ম্যানহোল খুব কাছে রয়েছে, আবার কোথাও অনেক দূরে। এই চরম গাফিলতির কারণেই বর্ষায় জল বের হতে না পেরে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে কোনো অবস্থাতেই ম্যানহোল পরিষ্কার করার জন্য মানুষের ব্যবহার করা যাবে না। মানুষের জীবনের ঝুঁকি না বাড়িয়ে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটিক মেশিনের সাহায্যে এই ম্যানহোলগুলি পরিষ্কার করতে হবে। এর পাশাপাশি ব্রিজের তলার কালভার্টগুলিও দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই যুদ্ধকালীন তৎপরতার ফলে আসন্ন বর্ষায় কৈখালি ও হলদিরাম চত্বরে জল জমার দুর্ভোগ থেকে সাধারণ মানুষ দ্রুত রেহাই পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মেশিনের সাহায্যে আধুনিক উপায়ে নিকাশি সাফাইয়ের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে মহানগরের জলযন্ত্রণা মুক্তির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।