এক জীবনেই দুই বড় দল থেকে বহিষ্কার, ঋতব্রতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি এবার বড়সড় সংকটে!

এক জীবনেই দুই বড় দল থেকে বহিষ্কার, ঋতব্রতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি এবার বড়সড় সংকটে!

বাংলার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের জন্ম দিলেন তরুণ রাজনীতিক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নয় বছর আগে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে যে বাম শিবির থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, আজ ঠিক একই অভিযোগে তাঁকে তাড়াল বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও। নিজের দলের বিরুদ্ধেই সই জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তোলার পরপরই তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

শতরূপের চাঁছাছোলা আক্রমণ ও বেইমানির খতিয়ান

ঋতব্রতের এই জোড়া বহিষ্কারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর মতে, ঋতব্রত বাংলার রাজনীতির এমন এক প্রথম ‘নায়ক’ যিনি এক জীবনে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করলেন। শতরূপের দাবি, যে সিপিএম ঋতব্রতকে দেশের ছাত্র আন্দোলনের বড় নেতা বানিয়ে কম বয়সে সংসদে পাঠিয়েছিল, তাঁর পক্ষে সেই দলের সঙ্গে বেইমানি করা যদি সম্ভব হয়, তবে তৃণমূলের সঙ্গেও এমনটা করা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। একইসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের পুরোনো উল্লাসকে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ঋতব্রত যখন বামেদের দুর্নাম করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তখন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে মাথায় তুলে নেচেছিল। এখন নিজের ঘরেই বেইমানির সেই একই ফল ভোগ করতে হচ্ছে তৃণমূলকে।

ভবিষ্যতের রাজনীতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বহিষ্কারের ঘটনা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরপর দুটি বড় দল থেকে এভাবে বিতাড়িত হওয়ার পর নতুন কোনো শিবিরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়া বেশ কঠিন। অন্যদিকে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজ্য বিজেপির সাম্প্রতিক অবস্থানকে টেনে শতরূপ ঘোষের দাবি, গোটা তৃণমূলই এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ার দৌড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে ঋতব্রতের এই বিদায় কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই ধাক্কা নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী আবহে দলবদল ও দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *