অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে তথ্য না থাকলেও মিলবে টাকা, বিভ্রান্তি দূর করে আশ্বস্ত করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

রাজ্যে বহু প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে উপভোক্তাদের মনে তৈরি হওয়া নানাবিধ বিভ্রান্তি ও আশঙ্কার অবসান ঘটালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে চাওয়া একাধিক জটিল তথ্য যদি কারও কাছে না থাকে, তবে করণীয় কী—সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দূর করে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো তথ্য অজানা থাকলে বা ফর্ম সম্পূর্ণ পূরণ করতে না পারলেও যোগ্য ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
আজ থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী বুধবার, ৩ জুন থেকেই যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকতে শুরু করবে। এই আবহে ১২ পাতার বিশাল ফর্মে নাম ও বয়সের মতো সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু জটিল তথ্য চাওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, সঠিক তথ্য দিতে না পারলে হয়তো প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না।
ফর্ম পূরণ না হলেও মিলবে টাকা, আসল কারণ জানাল সরকার
এই বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মটি মূলত একটি ডেটা বা তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফর্ম সম্পূর্ণ পূরণ করতে না পারলে যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। মূলত আগামী দিনে রাজ্য সরকার আরও নতুন নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে, আর সেই কারণেই নাগরিকদের এই বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্য অজানা থাকলে উপভোক্তাদের করণীয়
ফর্মে চাওয়া কোনো নির্দিষ্ট তথ্য যদি উপভোক্তার জানা না থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে কী করণীয়, তারও সহজ সমাধান দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি উপভোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ফর্মে যেটুকু তথ্য দেওয়া সম্ভব, ঠিক ততটুকুই পূরণ করতে হবে। আর যে তথ্যটি জানা নেই বা যার নথি নেই, সেই ঘরের পাশে ‘নট অ্যাপ্লিকেবল’ (Not Applicable) বা প্রযোজ্য নয় লিখে দিলেই চলবে। বাকি বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারি স্তর থেকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিকে, ফর্ম পূরণ নিয়ে আমজনতাকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যোগ্য সমস্ত মহিলাই এই যোজনার টাকা পাবেন। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করার জন্য সরকারি প্রতিনিধি দল কাজ করবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ফর্ম সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাবে এবং যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।