সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, ভুয়ো উপভোক্তা রুখতে কড়া নবান্ন

সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, ভুয়ো উপভোক্তা রুখতে কড়া নবান্ন

রাজ্যে শুরু হয়ে গেল বহুল প্রতীক্ষিত অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া। বুধবার নবান্ন থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আজ থেকেই সরাসরি ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার থেকেই এই যোজনার অনলাইন ফর্ম ফিলাপ শুরু হয়েছিল, যার পরদিনই সরাসরি আর্থিক অনুদান দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করল রাজ্য সরকার।

১২ পাতার ফর্ম ঘিরে বিতর্ক ও মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ১২ পাতার একটি দীর্ঘ ফর্ম প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এত দীর্ঘ ফর্মে কেন তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এই বিষয়ে যাবতীয় বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রাথমিকভাবে ভাবা হয়েছিল কোনো ফর্মেরই প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যাচাই পর্বে দেখা যায়, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছিলেন। হাজার হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ চলে যাচ্ছিল। এই বিপুল আর্থিক অপচয় এবং জালিয়াতি রুখতেই নিখুঁত যাচাইকরণের জন্য এই নতুন ফর্ম আনা হয়েছে।

নাগরিকত্ব যাচাই ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

সরকারি প্রকল্পের টাকা যাতে কেবল প্রকৃত ও যোগ্য প্রাপ্রকরাই পান, তা নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে না পারলেই যে কেউ অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, এমন নয়। মূলত আগামী দিনে সরকার আরও যেসব জনকল্যাণমুখী প্রকল্প আনতে চলেছে, সেগুলির জন্য একটি স্থায়ী ও সঠিক তথ্যভাণ্ডার (ডাটাবেস) তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি, এই ফর্মের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নেই এবং যাঁরা অবৈধভাবে এ দেশে ঢুকেছেন, তাঁরা কোনোভাবেই এই যোজনার সুবিধা পাবেন না।

প্রসাশনিক সূত্রে খবর, আগামী তিন মাস ধরে এই ফর্ম ফিলাপ প্রক্রিয়া চলবে এবং প্রতি ৭ দিন অন্তর উপভোক্তাদের তালিকা আপডেট করা হবে। এর ফলে সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত দুঃস্থদের কাছে অনুদান পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *