ভেঙে পড়ল মমতার দীর্ঘ লড়াইয়ের দুর্গ, বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’ স্বীকৃতি পেয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত!

ভেঙে পড়ল মমতার দীর্ঘ লড়াইয়ের দুর্গ, বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’ স্বীকৃতি পেয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত!

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা। দীর্ঘ জвлеপনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সংখ্যাধিক্যের জোরে শক্তি পরীক্ষায় পাশ করলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করায় তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত ঋতব্রত এবং তাঁর সহযোগী বিধায়কদের হাতে চলে গেল। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফসল তৃণমূলের পরিষদীয় রাশ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে হাতছাড়া হলো এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন।

তাসের ঘরের মতো ভাঙন ও ক্ষমতার হাতবদল

দলীয় অন্দরের দীর্ঘদিনের চোরাস্রোত ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূলের পরিষদীয় কাঠামো। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, দল ভাঙার আইনি স্বীকৃতি ও ‘আসল তৃণমূল’ মর্যাদা পেতে জয়ী আসনের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। বুধবার দুপুরে স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সই করা সমর্থনপত্র জমা দিয়ে সেই লক্ষ্যমাত্রা সহজেই পার করে ঋতব্রত শিবির। স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিধানসভায় বিরোধী দলের ঘরটি বিদ্রোহীদের জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং চাবি হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক কর্তৃত্বের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলো, যেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচেতক বা চিফ হুইপ হিসেবে আখরুজ্জামান এবং উপ-দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহাকে নিয়ে নতুন পরিষদীয় টিম গঠিত হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা

এই আকস্মিক ভাঙনের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলের মালিকানা হারালেও দলের নাম, প্রতীক এবং সার্বিক সাংগঠনিক সম্পত্তির অধিকার পাওয়া ঋতব্রত শিবিরের জন্য এখনই সহজ হবে না। এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। ফলে আগামী দিনে আসল দল কার, তা নির্ধারণে সাংসদ, বিধায়ক ও পদাধিকারীদের মতামত যাচাইয়ের এক দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান সরকারকে ইস্যুতে চোখে চোখ রেখে গঠনমূলক বিরোধিতার বার্তা দিয়েছেন এবং নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল একজন ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পরিষদীয় দলের এই বিশাল ধসের ফলে একদিকে যেমন তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব তীব্র সংকটে পড়ল, অন্যদিকে যুবনেতৃত্বকে ঘিরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ বিতর্ক দলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *