ভিসা জালিয়াতি বড় বিপদ আমেরিকার নাগরিকত্ব হারাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও

অবৈধ অভিবাসন ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তথ্য গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়া ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই নাগরিকত্ব বাতিলের তালিকায় জড়িয়ে গেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোগপতি নীরজ শর্মার নাম। নিউ জার্সিভিত্তিক কর্মী নিয়োগকারী সংস্থা ম্যাগনাভিশন এলএলসি-র সিইও ছিলেন তিনি।
জালিয়াতির যত অভিযোগ
মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিজ সংস্থা ম্যাগনাভিশন এলএলসি-র মাধ্যমে ১১টি জাল এইচ-১বি ভিসার আবেদন জমা দেন ৫০ বছর বয়সি নীরজ। ওই আবেদনগুলিতে বিভিন্ন সংস্থার নির্বাহীদের জাল স্বাক্ষর এবং ভুয়া সহায়ক নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব পান। অভিযোগ রয়েছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের অপরাধমূলক ইতিহাস ও মিথ্যাচারের তথ্য গোপন করেন। বিচার বিভাগ মনে করছে, সম্পূর্ণ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এই নাগরিকত্ব লাভ করা হয়েছে, যা অবিলম্বে বাতিলযোগ্য।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের সাময়িক ভাবে আমেরিকায় কাজের সুযোগ দিতে এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসা নিয়মে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে জালিয়াতির পথ বেছে নেওয়াই নীরজের এই বিপদের মূল কারণ। এই ঘটনার জেরে কেবল নীরজের নাগরিকত্ব বাতিলই হবে না, বরং আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে বড় ধরনের শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও তীব্রতর করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।