রাহুল ও অভিষেকের দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠক, জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে আরও মজবুত করার প্রক্রিয়ায় এবার নতুন মাত্রা যোগ হলো। তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত এই রুদ্ধশ্বাস বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে, যা বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে বিভিন্ন দলের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা দূরে সরিয়ে কীভাবে বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জাতীয় স্তরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরিই এই সাক্ষাতের মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পশ্চিমবঙ্গের টালমাটাল পরিস্থিতি ও রাজ্য রাজনীতি
বৈঠকে শুধু জাতীয় রাজনীতি নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর থেকেই রাজ্যে বেশ চাপের মুখে রয়েছে শাসকদল। দলবদলের হিড়িক এবং পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে একাংশ সাংসদের বিদ্রোহী হয়ে এনডিএ শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ার গুঞ্জন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব ও অবস্থান ধরে রাখতে কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তৃণমূলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গান্ধী পরিবারের বহু পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টিও এই সমঝোতার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। অতীতে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর সুসম্পর্ক কখনোই নষ্ট হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান দলীয় সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের দরকষাকষি বাড়াতে কংগ্রেসের হাত শক্ত করার বার্তা দিতেই এই ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই বৈঠকের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে বিরোধী জোট আরও বেশি সংহত হতে পারে এবং আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।