৮০ বছরের রেকর্ড ভেঙে জ্বলছে পৃথিবী! অশনি সংকেত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের?

নিজস্ব প্রতিবেদন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আট দশকে বিশ্ব আজ সবথেকে সংকটময় ও রক্তাক্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি। রাশিয়া-ইউক্রেন বা গাজ়া যুদ্ধ কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং গোটা পৃথিবীতে একযোগে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের আগুনের শিখা মাত্র। বুধবার নরওয়ের বিখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো’ (PRIO)-র প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে বিশ্বশান্তি নিয়ে উঠে এল হাড়হিম করা তথ্য।
ভাঙল আট দশকের রেকর্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সংঘাত, যুদ্ধ এবং অস্থিতিশীলতার মাত্রা গত ৮০ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তার যে চেনা কাঠামো বিশ্বকে সুরক্ষিত রেখেছিল, তা আজ কার্যত ধূলিসাৎ। বর্তমানে পূর্ব ইউরোপ থেকে পশ্চিম এশিয়া, এমনকি সাব-সাহারান আফ্রিকা—প্রতিটি প্রান্তেই ক্ষেপণাস্ত্র আর বারুদের গন্ধে ভারী বাতাস। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আমরা কি তবে অলিখিতভাবে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’-এর প্রেক্ষাপটে প্রবেশ করেছি?
কেন সামাল দেওয়া যাচ্ছে না এই সংঘাত? PRIO-র রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের এই বর্তমান রূপটি অত্যন্ত জটিল। আগে কোনো আঞ্চলিক অশান্তি আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে বড় আকার ধারণ করার আগেই থামিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু এখন সেই কূটনৈতিক মধ্যস্থতার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অনৈক্য এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের প্রবণতা এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের ব্যর্থতা ও প্রযুক্তির মারণাস্ত্র এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য মূলত তিনটি বিষয়কে দায়ী করা হয়েছে: ১. আন্তর্জাতিক সংস্থার দুর্বলতা: রাষ্ট্রপুঞ্জ বা নিরাপত্তা পরিষদের মতো সংস্থাগুলোর প্রভাব ক্রমশ কমছে। কোনো সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখন আর একমত হতে পারছে না। ২. ক্ষমতার শূন্যতা ও আগ্রাসন: আন্তর্জাতিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে আঞ্চলিক শক্তিগুলো সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সীমানা দখলের খেলায় মেতেছে। ৩. প্রযুক্তির অপব্যবহার: কম খরচের ড্রোন প্রযুক্তি এবং সাইবার যুদ্ধকৌশল বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সহজ করে দিয়েছে।
মানবিক বিপর্যয় ও স্থায়ী অশান্তির শঙ্কা আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু সামরিক ক্যাম্পেই সীমাবদ্ধ নেই। শহুরে যুদ্ধের কারণে অসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুহার ও শরণার্থী সংকট চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া, একযোগে একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধ চলায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
নরওয়ের এই সংস্থার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, পুরনো ধাঁচের শান্তি রক্ষা প্রক্রিয়া দিয়ে এই নতুন যুগের সংঘাত রোখা আসাম্ভব। দ্রুত একটি নতুন বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে না পারলে, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধই পৃথিবীর ‘স্থায়ী স্বাভাবিক নিয়ম’ হয়ে দাঁড়াবে—যা কার্যত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরই নামান্তর।