উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রবেশ, দক্ষিণে প্রবল কালবৈশাখীর সতর্কতা!

রাজ্য জুড়ে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। উত্তরের জেলাগুলোতে যেখানে বর্ষার আগমনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেখানে দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলার জন্য জোরালো কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। একদিকে গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ এবং অন্যদিকে আচমকা ঝড়-বৃষ্টি—এই দ্বিমুখী আবহাওয়ার ফলে রাজ্যবাসীর দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরে বর্ষার দাপট
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে বিহারের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের তিন-চারটি জেলায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা প্রবেশ করেছে। এর জেরে আজ জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির চরম সতর্কতা রয়েছে। এছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং দুই দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরের জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। টানা এই বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণে কালবৈশাখী ও কলকাতার পরিস্থিতি
উত্তরবঙ্গে বর্ষার প্রবেশ ঘটলেও দক্ষিণবঙ্গে গরম ও অস্বস্তি এখনই পুরোপুরি কাটছে না। তবে ভ্যাপসা গরমের মাঝেই বেশ কিছু জেলায় প্রবল কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং হুগলি জেলায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় হতে পারে। পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান এবং বাঁকুড়ায় আজ ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, কলকাতাতেও সকাল থেকে অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকলেও দুপুরের পর আবহাওয়ার পরিবর্তনের পূর্বাভাস রয়েছে। দুপুরের পর শহরে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে এই বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। এই ঝড়-বৃষ্টি সাময়িক তাপপ্রবাহ থেকে স্বস্তি দিলেও প্রবল কালবৈশাখীর কারণে কাঁচা বাড়ি ও কৃষিকাজে আংশিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। শীঘ্রই দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলা ও সংলগ্ন রাজ্যগুলিতেও বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে।