মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা! আমেরিকার রাতভর গোলাবর্ষণে কাঁপল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা! আমেরিকার রাতভর গোলাবর্ষণে কাঁপল ইরান

শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ এখন বিশবাঁও জলে। নতুন করে শুরু হওয়া মারাত্মক সংঘাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। বুধবার রাতে ইরানের একাধিক শহরে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই অতর্কিত হামলার জবাবে চুপ থাকেনি তেহরানও। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা।

ইরানের প্রত্যাঘাত ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা

বুধবার রাতে সিরিক ও মিনাব-সহ ইরানের একাধিক শহরে মুহুর্মুহু মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। আচমকা এই বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও ইরানি সেনা দ্রুত তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে তোলে এবং এই হামলায় হতাহতের কোনো খবর মেলেনি। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই তেহরান কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইরানের ইসলামিক রিভ্যালুশনারী গার্ডের দাবি, কুয়েত ও বাহরিন-সহ একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে তারা সফল প্রত্যাঘাত করেছে। এই হামলায় একটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ-সহ সব ধরনের নৌ-চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই জলপথে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকির ফলেই এই নজিরবিহীন সংঘাতের সূত্রপাত। হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেহরান সাফ জানিয়েছে, এই জলপথ অতিক্রম করার চেষ্টা করলেই যেকোনো জাহাজ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিধি লঙ্ঘনকারী দুটি জাহাজে ইরানি সেনা আক্রমণ করেছে বলে খবর ছড়ালেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তা খারিজ করে দিয়েছে। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ডেকে আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *