মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে ফেরার জল্পনায় ফুঁসছে কংগ্রেস!
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,628&ssl=1)
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের সমীকরণ মাথায় রেখে জাতীয় স্তরে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সুসম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা চললেও, বাংলার জেলা স্তরের কংগ্রেস নেতাদের একাংশ তা কোনোভাবেই মানতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতা মোহিত সেনগুপ্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
জঞ্জাল মুক্ত কংগ্রেসের দাবি
তৃণমূল কংগ্রেস এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মোহিত সেনগুপ্ত। তাঁর মতে, অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর দ্বারস্থ হচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা সরাসরি তৃণমূল নেত্রীকে ‘জঞ্জাল’ বলে কটাক্ষ করে দলীয় হাইকম্যান্ডকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মোহিতবাবুর সাফ কথা, তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার হয়েছে, তা দলের নিচুতলার কর্মীরা ভুলতে পারেননি। তাই ওই জঞ্জাল যেন কোনোভাবেই কংগ্রেসে ফিরে না আসতে পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন
মোহিত সেনগুপ্তের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি কংগ্রেসে ফিরে আসেন বা দুই দল একজোট হয়, তবে গ্রাম বাংলায় কংগ্রেসের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাঁর বিশ্লেষণে, তৃণমূলের দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে, তাতে দলবদল নিয়ে এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মানুষ কংগ্রেসের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। স্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের মতে, দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণ আর বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলানো মানে কংগ্রেসের রাজনৈতিক আত্মহত্যা, তাই জেলা স্তরের কর্মীরা এই জোটে কোনোভাবেই রাজি নয়। এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার পথ যতটা সহজ ভাবা হয়েছিল, রাজ্য রাজনীতির বাস্তব সমীকরণ তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও সংঘাতপূর্ণ।