হাসপাতালেও মিলল না জীবনদায়ী অক্সিজেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের গোয়াডাঙা গ্রামে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন একই পরিবারের সদস্যরা। নির্মীয়মাণ আবাস যোজনার বাড়ির বাথরুম চেম্বারে কাজ করার সময় ৫৯ বছর বয়সী সুনীল পণ্ডিত ও তাঁর ছেলে লক্ষণ পণ্ডিত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও একজন অসুস্থ হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে সময়মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়নি। সঠিক চিকিৎসার অভাবেই শেষ পর্যন্ত বাবা ও ছেলের করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। বর্তমানে তৃতীয় ব্যক্তিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অক্সিজেনের অভাবের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে সেপটিক ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসকেই দুর্ঘটনার কারণ মনে করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই প্রকৃত সত্য জানা যাবে। এদিকে চিকিৎসায় গাফিলতি এবং অক্সিজেনের বন্দোবস্ত না হওয়ার এই বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।