অনির্বাচিত ব্যক্তি কীভাবে চার মাস ধরে মন্ত্রী? সাংবিধানিক বিধিলঙ্ঘনে বিহার সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া তলব!

বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে দীর্ঘ দিন ধরে একজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদে থেকে যেতে পারেন? সাংবিধানিক বিধিভঙ্গের এই অভিযোগে বিহারের নীতিশ কুমার সরকারের কাছে কড়া ব্যাখ্যা তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিহারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই প্রশ্ন ওঠে।
কী বলছে সংবিধানের ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদ?
সংবিধানের ১৬৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অনির্বাচিত কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তাঁকে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে হয়। তা না হলে তিনি আর মন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। আবেদনকারীর অভিযোগ, দীপক প্রকাশ এই নির্দিষ্ট মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কোনো পদে নির্বাচিত না হয়েই দিব্যি মন্ত্রিত্ব উপভোগ করছেন।
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এক আইনি প্রশ্ন। ছয় মাসের আইনি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কীভাবে একজন অনির্বাচিত ব্যক্তি মন্ত্রী পদে রয়েছেন, রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে তার জবাব দিতে হবে। জবাবে রাজ্য সরকার আদালতকে জানিয়েছে যে বিষয়টিতে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা আদালতের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছে।
কোথায় জটিলতা?
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, গত বছরের নভেম্বর মাসে কোনো সদনের সদস্য না থাকা সত্ত্বেও নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছিলেন দীপক প্রকাশ। পরে সরকার বদলের পর গত ১৫ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত তিনি কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। কিন্তু গত ৭ মে আবারও অনির্বাচিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নতুন করে মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।
আইন অনুযায়ী একজন অনির্বাচিত ব্যক্তি পর পর দু’বার এভাবে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হিসাব অনুযায়ী দীপক প্রকাশ ইতিমধ্যে দ্বিতীয় দফার চার মাস ২৬ দিন অতিক্রম করে ফেলেছেন। আদালতের এই কড়া মনোভাবের কারণে বিহারের শাসক শিবিরের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলো।