ক্যান্টিনে আর মিলবে না কোল্ড ড্রিঙ্কস-চকোলেট, ১ লক্ষ স্কুলে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

স্কুলগামী শিশুদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ধের কঠোর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে স্কুল ক্যান্টিনগুলির চেহারা ও খাবারের মেন্যু দ্রুত বদলে যেতে শুরু করেছে।
৫০ মিটারের মধ্যে বন্ধ অস্বাস্থ্যকর খাবার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এক লক্ষেরও বেশি স্কুলের ক্যান্টিন এবং স্কুল চত্বরের ৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যেকোনো ধরনের জাঙ্ক ফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার—যেমন চিপস, চকোলেট, ম্যাগি, মিষ্টি পানীয় ও কোল্ড ড্রিঙ্কস আর স্কুলে পাওয়া যাবে না। নিয়ম অলঙ্ঘন করলে নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
ক্যান্টিনের মেন্যুতে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন প্রশাসনের এই নির্দেশের বাস্তব প্রতিফলন দেখতে মুম্বাইয়ের শ্রী ঘনশ্যাম দাস পোদ্দার স্কুলে একটি বিশেষ সমীক্ষা চালায় ‘টিভি৯ ভারতবর্ষ’। দেখা যায়, নতুন নিয়ম মেনে সংস্কার করা হয়েছে ক্যান্টিন, উন্নত করা হয়েছে সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি। স্কুলের ডিরেক্টর বিশাল তিবরেওয়াল জানান, আগের সমোসা, চিপস ও চকোলেটের জায়গা এখন নিয়েছে খিচুড়ি, পোয়া, উপমা, ইডলি, বাজরা-ভিত্তিক খাবার, তাজা ফল এবং দুধের মতো পুষ্টিকর বিকল্প।
অভিভাবক ও হকারদের সমর্থন শুধু স্কুল নয়, ঘরেও যাতে শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পায়, সে জন্য অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে ‘আজাদ হকার্স ইউনিয়ন’। এফডিএ কমিশনারকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে তারা। প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও পথবিক্রেতাদের যৌথ উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে এখন শিশুদের জন্য এক সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষৎ গড়ার লড়াই চলছে।