‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক’— সীমান্তে চীনা তৎপরতা নিয়ে গুঞ্জনের মাঝে সুর নরম বেইজিংয়ের

অরুণাচল সীমান্তে চীন বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির জল্পনার মাঝেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল বেইজিং। সম্প্রতি ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে সীমান্তে চীনা সেনার সন্দেহজনক আনাগোনা দাবি করা হচ্ছিল, যা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল’।
বেইজিংয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্প্রতি কূটনৈতিক আলোচনা (WMCC-র ৩৬তম বৈঠক) হয়েছে। দুই দেশই সেনা ও কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রেখে এলএসি-তে (LAC) শান্তি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
ভারতের স্পষ্ট বার্তা: বেইজিংয়ের এই মন্তব্যের আগেই ভারতের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্তই হলো সীমান্তে শান্তি ও স্থায়িত্ব রাখা।
উল্লেখ্য, চীন দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ দাবি করে বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি সেখানকার ২৭টি জায়গার চীনা নাম ঘোষণার চেষ্টাও করেছিল বেইজিং। তবে ভারত কড়া ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে— অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ২০২৪-এর অক্টোবরে ডেমচক ও দেপসাং থেকে সেনা সরানোর চুক্তির পর কিছুটা শিথিল হয়। কিন্তু সীমান্তে চীনের ঘন ঘন এই ধরণের তৎপরতা ও অরুণাচল নিয়ে তাদের একরোখা মনোভাব এখনও দুই দেশের বিশ্বস্ততায় বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে রয়েছে।