‘কোনও অন্যায় করিনি!’ নেতাজিকে অপমানের অভিযোগে বঙ্গবিভূষণ হারালেও নিজের দাবিতেই অনড় অনন্ত মহারাজ

‘কোনও অন্যায় করিনি!’ নেতাজিকে অপমানের অভিযোগে বঙ্গবিভূষণ হারালেও নিজের দাবিতেই অনড় অনন্ত মহারাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ির একটি অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। অভিযোগ, তিনি দেশনায়ককে চরম অপমান করেছেন। এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সম্মান হারানোর পরও নিজের বক্তব্যে অনড় অনন্ত মহারাজ, ক্ষমা চাওয়ার বদলে উল্টে দিয়েছেন চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনন্ত মহারাজ বলেন,

“মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু আমি তো নিজের মনগড়া কিছু বলিনি! যা বইয়ে লেখা আছে, সেটাই বলেছি। শরৎ বসুর লেখা ‘ইন্ডিয়ান মুভমেন্ট ইন ইস্ট এশিয়া’ বইতে এসব তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। আমি কাউকে ‘গুণ্ডা’ বলিনি, শুধু এটুকুই বলেছি যে উনি দেশ স্বাধীন করেছিলেন— এমন কোনো তথ্য ইতিহাসের বইতে পাইনি। আমি ভুল বললে প্রমাণ করে দেখান।”

ঠিক কী বলেছিলেন অনন্ত মহারাজ? সম্প্রতি ফুলবাড়ির ইভেন্টে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র গান্ধীজি, নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনে দেশ স্বাধীন হয়নি। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, জার্মানির হাতে বন্দি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাকে নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সেনাদের নিয়েই গঠিত হয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজ। কিন্তু নেতাজি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। অনন্ত মহারাজের মতে, কোচবিহারের মহারাজাকে ভারতের সম্রাট করা হলে দেশভাগ হতো না, ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।

নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ: অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নবান্নের বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতাজিকে নিয়ে কোনো অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম কিংবা কটু মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না।

উত্তরবঙ্গের বিধায়ক ও মন্ত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশকে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, সাংসদ হোক বা সাধারণ মানুষ— আইনের চোখে সবাই সমান। নেতাজিকে অপমানকারীদের অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে অপমানজনক পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *