রামায়ণের রাজা জনকের কুলদেবী এই দুর্গা! নেপালের মন্দিরে আজও হয় তন্ত্রমতে পুজো, জানেন কেন?

নেপালের জনকপুর বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সীতা-রামের স্মৃতিকথ বিজড়িত স্নিগ্ধ জনকী মন্দির। তবে এই ভক্তিধামের বুকেই থমথম করছে এক গভীর রহস্যময় শক্তি, রাজদেবী মন্দির। লোককথা অনুযায়ী, রামায়ণের রাজা জনকের কুলদেবী ছিলেন দেবী রাজদেবী, যিনি প্রাচীন মিথিলা সাম্রাজ্য রক্ষা করতেন। শারদীয় দুর্গাপুজোর সময় এই শান্ত মন্দির চত্বর রূপ নেয় এক অলৌকিক ও শিহরণ জাগানো পরিবেশে। মহাষ্টমীর রাতে দেবীকে সন্তুষ্ট করতে এখানে আয়োজন করা হয় কঠোর তান্ত্রিক আরাধনার। ভারত ও নেপালের সীমান্ত পেরিয়ে লাখ লাখ ভক্তের উপস্থিতি ও গভীর বিশ্বাসে এই প্রাচীন শক্তিপীঠ আজও জাগ্রত।
রাজদেবী মন্দিরে মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ এখানকার এক অদ্ভুত ও শক্ত ঐতিহ্য। তান্ত্রিক বিধিনিষেধের কারণে আরাধনার সময় গর্ভগৃহে নারীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে, তাই ভক্ত নারীরা বন্ধ জানলা ছুঁয়েই দেবী দর্শন করেন। সেই সাথে মহাষ্টমীর রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টের মধ্যে দেবীর চরণে বলি দেওয়া হয় প্রায় ১৫ হাজার ছাগশিশু, যা প্রতি মিনিটে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি। বহু বছর পূর্বে ঘন জঙ্গলে জোড়া তালগাছের তলায় সাধকদের অনুভূত সেই দেবীশক্তি আজও বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।