বৈবাহিক বিবাদকে মহাভারতের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ১০ বছরের পুরনো বিয়ে বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট

দীর্ঘ এক দশকের তিক্ত আইনি লড়াই এবং সম্পর্কের চরম অবনতি দেখে একটি বৈवाहिक বিবাদকে ‘মহাভারতের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার জটিলতা নিরসনে এবং উভয় পক্ষকে আইনি জঞ্জাল থেকে মুক্তি দিতে শীর্ষ আদালত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিয়েটি বাতিল ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে চলমান মোট ৮০টি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
আইন যখন প্রতিহিংসার হাতিয়ার
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই মামলার পর্যবেক্ষণে জানান, পেশায় আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও স্বামী তাঁর আইনি জ্ঞানকে গঠনমূলক কাজে না লাগিয়ে স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। আদালত মনে করে, এই বিয়েটি কার্যত মৃত এবং একে টেনে নিয়ে যাওয়া মানে কেবল যন্ত্রণাকে দীর্ঘায়িত করা। স্বামীর আচরণ প্রসঙ্গে আদালত কঠোর মন্তব্য করে জানায়, তিনি বিচার ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করে স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ি এমনকি স্ত্রীর আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও অসংখ্য অভিযোগ দায়ের করে পরিস্থিতিকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও সন্তানদের হেফাজত
সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য এককালীন ৫ কোটি টাকা প্রদান করবেন। এই অর্থ স্থায়ী খোরপোশ, অতীতের বকেয়া এবং মামলার খরচ হিসেবে গণ্য হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে কিস্তিতে বা একবারে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আদালতের পক্ষ থেকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
- স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে চলমান দেওয়ানি ও ফৌজদারি সহ ৮০টি মামলা তাৎক্ষণিকভাবে রদ করা হয়েছে।
- দম্পতিদের দুই ছেলের পূর্ণ হেফাজত মায়ের কাছে থাকবে।
- পিতা হিসেবে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার বজায় রেখেছেন আদালত।
বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করার পরিণাম
এই মামলার পাশাপাশি অন্য একটি ঘটনায় বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় অনুকূল রায় পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক আইনজীবীর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানায়, বিচার বিভাগকে যারা ‘খোলা বাজারে পণ্য’ হিসেবে বিক্রি করার চেষ্টা করে, তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না। এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আইন কাউকে হেনস্তা বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার নয়।
একঝলকে
- সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘ ১০ বছরের বৈवाहिक বিবাদকে ‘মহাভারতের যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছে।
- সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে বিয়ে বাতিল ঘোষণা।
- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে থাকা মোট ৮০টি মামলা সরাসরি খারিজ।
- স্বামীকে ৫ কোটি টাকা খোরপোশ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ।
- সন্তানদের হেফাজত স্ত্রীর কাছে থাকলেও স্বামীর দেখা করার সুযোগ থাকছে।
- আইনজীবী স্বামীকে আইনের অপব্যবহার করার জন্য তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের।