নাটো ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প, রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর তুঙ্গে উত্তেজনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ন্যাটোর (NATO) মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। হোয়াইট হাউসে বন্ধ দরজায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনার পর ট্রাম্প ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অতীতে যখন আমেরিকার সাহায্যের প্রয়োজন ছিল, তখন ন্যাটো পাশে থাকেনি এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ
মহাসচিব রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অতীতের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এবং গ্রিনল্যান্ডের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কটাক্ষ করেন। মূলত ইরান সংকটের সময় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের উপক্রম হওয়া সত্ত্বেও জোটের নিষ্ক্রিয়তা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ট্রান্স-আটলান্টিক জোট ত্যাগের বিষয়টি তার প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।
সংঘাত ও কূটনীতির টানাপোড়েন
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সিদ্ধান্তের পরই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ থাকলেও, ট্রাম্পের দাবি—যুক্তরাষ্ট্রের বিপদের সময় এই জোট কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইনি জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা
ডোনাল্ড ট্রাম্প জোট ত্যাগের কথা বললেও তা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে ন্যাটো থেকে বের হতে পারবেন না। এমনকি রিপাবলিকান দলের অনেক প্রভাবশালী নেতা, যেমন সিনেটর মিচ ম্যাককনেল, ট্রাম্পকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ন্যাটোর বন্ধু দেশগুলোই আমেরিকার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়েছিল।
সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব
যদি ট্রাম্প প্রশাসন ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বা সমর্থন কমিয়ে দেয়, তবে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী:
- ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা হ্রাস পেতে পারে।
- ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।
- মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এবং ন্যাটো প্রধানের মধ্যে আলোচনা সত্ত্বেও দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকতে পারে।
একঝলকে
- ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক কোনো ইতিবাচক সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে।
- আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় ন্যাটোর অক্ষমতাকে দায়ী করে জোট ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
- ইরান সংকট ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনামূলক অবস্থান বজায় রয়েছে।
- মার্কিন আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া ন্যাটো ত্যাগ করা প্রায় আসাম্ভব।
- সিনেটর মিচ ম্যাককনেলসহ অনেকেই ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের বিরোধিতা করছেন।