আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের! পারস্য উপসাগরে রণক্ষেত্র, মাঝসমুদ্রে পিছু হঠল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ?

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। এর সমর্থনে তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। অন্যদিকে আমেরিকা ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে নিছক ‘মাইন্ড গেম’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
তীব্র বাকযুদ্ধ এবং উত্তেজনার নেপথ্যে
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুটি মার্কিন ডিস্ট্রয়ারকে তাদের নৌবাহিনী সতর্ক করে এবং পিছু হটতে বাধ্য করে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাদের সতর্কবার্তার পর মার্কিন জাহাজগুলো প্রাণভয়ে পিছু হটেছে। এই অঞ্চলের জলপথের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জাহির করতেই ইরান এই ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার অবস্থান ও তথ্যের ভিন্নতা
ইরানের দাবির বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে শনিবার তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালীতে কোনো বাধা ছাড়াই সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি ইরানের এই প্রচারণায় কোনো সত্যতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে এটি মূলত একটি ‘ইনফরমেশন ওয়ার’ বা তথ্যযুদ্ধ। অতীতেও ইরানের প্রকাশিত কিছু ভিডিও নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল তাই এই ভিডিওর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও প্রভাব
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই এলাকায় সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনৈতিক এবং সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতেই দুই দেশ এই অঞ্চলে নিয়মিত শক্তি প্রদর্শন করে থাকে।
একঝলকে
- ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করেছে।
- আমেরিকা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে তাদের অভিযান সফল ও বাধাহীন ছিল।
- ঘটনাটিকে দুই দেশের মধ্যকার ‘ইনফরমেশন ওয়ার’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ খনিজ তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত হয়।
- বর্তমান পরিস্থিতি ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ তৈরি করেছে।