সোনারপুর দক্ষিণে রূপা-লাভলীর লড়াইয়ে কি গলার কাঁটা রাজন্যা?

সোনারপুর দক্ষিণে রূপা-লাভলীর লড়াইয়ে কি গলার কাঁটা রাজন্যা?

সোনারপুর দক্ষিণ: পানীয় জল ও নিকাশি সমস্যাই নির্বাচনী যুদ্ধের বড় চ্যালেঞ্জ

কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রটি এবার ভোটের ময়দানে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন উন্নয়নের আধুনিক ছোঁয়া, অন্যদিকে তেমনই ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট এবং পানীয় জলের তীব্র সংকট এলাকার দৈনন্দিন চিত্র। বিগত পাঁচ বছরে নিকাশি ব্যবস্থা এবং জল জমার সমস্যার কোনো সুরাহা না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। এই কেন্দ্রটিতে মোট ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২১ জন ভোটারের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার একটি বড় ফ্যাক্টর, এবং এসআইআর-এর কারণে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়াও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তারকা বনাম তারকা ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার তৃণমূলের প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক লাভলী মৈত্র, যার বিরুদ্ধে উন্নয়নের অভাবের অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে বিজেপির বাজি ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি মূলত জনসংযোগের ওপর ভর করে এগোচ্ছেন। সিপিআই প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্ত এবং তৃণমূলত্যাগী ছাত্রনেত্রী নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদারের উপস্থিতি লড়াইকে চতুর্মুখী এবং আরও জমজমাট করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের গোষ্ঠীগত অসন্তোষ ও জনপ্রতিনিধির নিষ্ক্রিয়তা এবার বিরোধী শিবিরের ক্ষেত্রে অ্যাডভান্টেজ হিসেবে কাজ করতে পারে।

এক ঝলকে

  • ভোটের সমীকরণ: ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২১ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার ৭২৮ জন সংখ্যালঘু। এসআইআর-এর কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সাড়ে ২১ হাজার মানুষও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
  • মূল সমস্যা: এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট ও কেন্দ্রীয় ‘অম্রুত প্রকল্প’ রূপায়ণে ব্যর্থতা, পাশাপাশি জলাজমি ভরাট ও ভঙ্গুর রাস্তাঘাট জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ।
  • প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: তৃণমূলের লাভলী মৈত্র বনাম বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এছাড়াও বাম প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্ত এবং নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার লড়াইকে ত্রিমুখী/চৌমুখী করেছেন।
  • ফলাফলের প্রভাব: জনপ্রতিনিধির কাজের মূল্যায়ন এবং নির্দল প্রার্থী রাজন্যার ভোট কাটার প্রবণতা আগামী ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলে বড় অদলবদল ঘটাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *