গণনায় ‘লুট’, সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল আর শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি গড়লেন মমতা

রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন পরবর্তী সংঘাত এবার আইনি লড়াইয়ের পথে। বুধবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, অন্তত ১০০টিরও বেশি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের ‘জোর করে হারিয়ে’ দেওয়া হয়েছে। এই গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী।
১০০ আসনে ‘কারচুপি’ ও আইনি পদক্ষেপ
বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, এবারের নির্বাচনে ফলাফল প্রভাবিত করতে গণনাকেন্দ্রে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বহু আসনে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে কারচুপির মাধ্যমে বিজেপিকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এই ‘গণতান্ত্রিক লুণ্ঠন’-এর প্রতিবাদে এবং প্রকৃত জনমত পুনরুদ্ধারে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্য়েই দলীয় আইনজীবীদের এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শৃঙ্খলারক্ষায় ৫ সদস্যের শক্তিশালী কমিটি
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে যাতে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বা ফাটল না ধরে, তার জন্য এদিন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং অন্তর্কন্দল রুখতে একটি ৫ সদস্যের ‘শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ গঠন করে দিয়েছেন তিনি। এই কমিটিতে রয়েছেন—
- ডেরেক ও’ব্রায়েন
- ফিরহাদ হাকিম
- চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
- শুভাশিস চক্রবর্তী
- অসীমা পাত্র
দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি সামাজিক মাধ্যমে বা সংবাদমাধ্যমে ‘বেসুরো’ মন্তব্য করেন, তবে এই কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কাউন্সিলর ও জেলা নেতার মন্তব্যে দল যে অস্বস্তিতে পড়েছে, তা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট।
বিধায়কদের প্রতি কড়া নির্দেশ
তৃণমূল নেত্রী এদিন তাঁর জয়ী প্রার্থীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই এলাকা ছেড়ে আসা চলবে না। বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জয়ী প্রার্থীদের নিজের নিজের এলাকায় থেকে ‘আক্রান্ত’ কর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আপাতত কলকাতায় না থেকে জনসংযোগ বাড়িয়ে দলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলেছেন মমতা।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।