কালিয়াগঞ্জের ‘মহারাজ’ কি মুখ্যমন্ত্রী? বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? ৯ তারিখ ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান, কিন্তু এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য বা অগ্নিমিত্রা পলের মতো হেভিওয়েট নামগুলো নিয়ে চর্চা চললেও, রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বেশি শোরগোল ফেলে দিয়েছে একটি অপ্রত্যাশিত নাম— স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দজী মহারাজ, যাঁকে কালিয়াগঞ্জের মানুষ ‘উৎপল মহারাজ’ নামেই চেনেন।
কে এই উৎপল মহারাজ?
কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দজী মহারাজ রেকর্ড ৭৬,৪২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। উত্তরবঙ্গের এই জয়ী প্রার্থীকে অনেকেই ইতিমধ্য়েই ‘বাংলার যোগী’ বলে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মতোই এক সন্ন্যাসী যখন বাংলার রাজনীতির আঙিনায় এত বড় জয় ছিনিয়ে আনেন, তখন তাঁকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর পদের জল্পনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অপ্রত্যাশিত নামের সম্ভাবনা
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অতীতেও বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চমক দিয়েছে। হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলিতেও দেখা গিয়েছে যে, পরিচিত মুখের বাইরে গিয়ে কোনও নতুন বা জনভিত্তি সম্পন্ন মুখকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই উৎপল মহারাজের নাম নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, তেমনই উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা অপরিসীম।
শুভেন্দু না কি নবাগত কেউ?
শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোড়া কেন্দ্রে পরাজিত করেছেন, তাতে তাঁর দাবি সবথেকে জোরালো। তবে দলের অন্দরে একাংশের মতে, প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবং হিন্দুত্বের তাস বজায় রাখতে কোনও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বকে সামনে আনা হতে পারে। যদিও শমীক ভট্টাচার্য বা অগ্নিমিত্রা পলের মতো নেতাদের অভিজ্ঞতাও দল উপেক্ষা করতে পারবে না।
শেষ পর্যন্ত কি কালিয়াগঞ্জের জয়ী প্রার্থীই নবান্নের হটসিটে বসবেন, না কি কোনও অভিজ্ঞ রাজনীতিকের কাঁধেই যাবে দায়িত্ব? এই উত্তর পেতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।