রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শপথের পর প্রথম এক সপ্তাহের কাজের খতিয়ান প্রকাশ করল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার

গত ৯ মে, বাঙালির আবেগের রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যতিথিতে পশ্চিমবঙ্গে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাধ্যমে শপথ নিয়েছিল এ রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম এক সপ্তাহ বা সাত দিন পূর্ণ করল। এই প্রথম এক সপ্তাহে রাজ্যের প্রশাসনিক সংস্কার, জনস্বার্থ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন সরকার ঠিক কতটা কাজ করল, এবার সাধারণ মানুষের দরবারে তার খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করল পদ্মশিবির।
দলীয় স্তরে প্রকাশিত এই খতিয়ানে সরকারের এক সপ্তাহের বড় বড় সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিগত জমানার দুর্নীতিতে যুক্ত একাধিক হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী গ্রেফতারির বিষয়গুলিকে বিশেষ ‘সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের প্রথম এক সপ্তাহের সেই উল্লেখযোগ্য খতিয়ান ও মেগা অ্যাকশনগুলির মূল অংশ নিচে দেওয়া হলো:
১. তোলাবাজি ও কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা
নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যের খেটে খাওয়া মানুষ, টোটো-অটো চালক এবং ফুটপাথের হকারদের ওপর চলা সব ধরণের রাজনৈতিক জুলুম ও বেআইনি তোলাবাজি বন্ধের কড়া নির্দেশ দিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, টোটো-অটো বা হকারদের থেকে কোনো রকম অবৈধ টোল বা তোলা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলেই সরাসরি এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পে ‘কাটমানি’ নেওয়া রুখতেও জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে প্রশাসন।
২. পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার বড় পদক্ষেপ
পুলিশ বাহিনীকে দলদাসের ভূমিকা থেকে বের করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত জমানায় রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হওয়ার অভিযোগে সরাসরি ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ (Police Welfare Board) ভেঙে দিয়েছে নতুন সরকার। এর মাধ্যমে পুলিশের একাংশের আধিকারিকদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপট খর্ব করে নীচুতলার পুলিশ কর্মীদের সরাসরি সরকারি সহায়তার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
৩. হাসপাতাল ও সরকারি ক্ষেত্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার পরদিনই কলকাতার নগরপাল অজয়কুমার নন্দ লালবাজারে শহরের সমস্ত হাসপাতালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বৈঠক করেন। সিসিটিভি সচল করা, বহিরাগত প্রবেশে রাশ টানা এবং রাতে জুনিয়র ডাক্তারদের সুরক্ষায় বিশেষ পুলিশি টহলদারির ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
৪. প্রভাবশালী ও ফেরার অপরাধীদের ধরপাকড় (উল্লেখযোগ্য গ্রেফতারি)
আইন-শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথম সপ্তাহেই পুলিশের হাত ধরে এসেছে একাধিক বড় সাফল্য, যা নতুন সরকারের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি:
- তৃণমূল নেতা গ্রেফতার: মালদার কালিয়াচকে গরিব টোটো চালকদের ভয় দেখিয়ে স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত তোলা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সাদ্দাম শেখকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- পলাতক টিএমসিপি সভাপতি খাঁচায়: হুমকি ও একাধিক বেআইনি কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) সভাপতি রন্তু দাসকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানায় এনেছে পুলিশ। সরকার বদলের পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন এই দাপুটে নেতা।
পদ্মশিবিরের দাবি, মাত্র এক সপ্তাহেই প্রশাসন যেভাবে গতি পেয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে আগামী দিনে বাংলায় প্রকৃত ‘সুশাসন’ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে।